সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
ইউরোপে শরতেই বসন্ত!
টিম মার্কসবাদী পথ
ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ধর্মঘটের প্রস্তুতি। যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং প্যালেস্তাইনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ৩০ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে একশটি বন্দরের ডক শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। ৫ নভেম্বরে সাধারণ ধর্মঘট হবে ফ্রান্সে, এগারোতে স্পেনে, ২০ নভেম্বর ইতালিতে, পঁচিশে গ্রিসে। পর্তুগালের ট্রেড ইউনিয়নও ধর্মঘট ডাকার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়নি।

জনরোষে উত্তাল ইউরোপ। গণবিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া। ইতালি থেকে গ্রিস। বেলজিয়াম থেকে পর্তুগাল। শ্রমজীবী মানুষ পুঁজিবাদের সংকটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছেন। ব্যয়সংকোচের মাধ্যমে এই সংকটের মূল্য দিতে অস্বীকার করছেন। ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সে রাস্তায় নামেন আট লক্ষ মানুষ। ছাত্র, শ্রমিক থেকে অবসর নেওয়া মানুষ। পালটা পুলিশ চালিয়েছে তুমুল দমন-পীড়ন। গ্রেপ্তার করেছে ২,৪০০ জনকে। আমজনতার প্রতিবাদের ঝড় সামলাতে সর্বত্র হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। শরতেই বসন্ত!
নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বুধবারের শিরোনাম: ‘ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ছাত্রদের বিক্ষোভ, যা বেআব্রু করছে এক অন্ধকার ভবিষ্যতকে’। প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ‘ইউরোপের অন্তত আটটি দেশের তরুণরা সাম্প্রতিক দিনগুলিতে রাস্তায় নেমে এসেছেন। পরিস্থিতি ও সরকারভেদে তাঁদের দাবিগুলি ভিন্ন ভিন্ন হলেও, একটি সাধারণ বিষয় তাঁদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছে: তাঁরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত।’ মাদ্রিদে এক প্রতিবাদীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘ভবিষ্যৎ নেই এমন প্রজন্ম আবার ফিরে এসেছে’। বুধবার এথেন্সের রাস্তায় শিক্ষক-ছাত্রদের মিছিলে ব্যানারে ছিল: ‘গ্রিস থেকে ফ্রান্স— শিক্ষায় চাই আরও সরকারি বরাদ্দ’।
ইউরোপের দেশগুলির বাড়ির দাম ক্রমশই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। সরকারি পরিষেবাগুলির ওপর চাপ বাড়ছে। নিরাপদ কর্মসংস্থানে প্রবেশের বিষয়টি প্রতিদিন আরও বেশি করে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইউরোস্ট্যাট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০-২৪ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাড়ির দাম ৫৫.৪ শতাংশ এবং বাড়ি ভাড়া ২৬.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টিইউআই ফাউন্ডেশন ইয়ুথ স্টাডি ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের সাতটি দেশের ১৬-২৬ বছর বয়সী তরুণদের ৫২ শতাংশ মনে করেন যে, তাদের জীবনযাত্রার মান তাদের বাবা-মায়ের তুলনায় আরও খারাপ হবে। অন্যদিকে, মাত্র ২৫ শতাংশ তরুণ মনে করেন যে তারা তাদের বাবা-মায়ের চেয়ে ভালো জায়গায় থাকবেন। ইউরো অঞ্চলে সামগ্রিক বেকারত্বের তুলনায় তরুণদের বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফ্রান্সের কোম্পানিগুলির ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কৃত্রিম মেধার প্রভাব রয়েছে এমন পেশাগুলিতে ২১-২৯ বছর বয়সী কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়ার হার আরও বেশি কমেছে (দ্য গার্ডিয়ান, ২২ অক্টোবর)।
কর্পোরেট মিডিয়া যথারীতি এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে আড়াল করতে বিক্ষিপ্ত কিছু হিংসা আর কিছু প্ররোচনাকারীর তাণ্ডবকে বড় করে দেখাচ্ছে। ঘটনা হলো, এই গণআন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের জরুরি দাবি-দাওয়া। পশ্চিমের শাসকশ্রেণি ‘বিপ্লব’ আর ‘হিংসা-দাঙ্গা’র মধ্যে পার্থক্য করার এক অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছে। আসলে বিষয় হলো— কার ক্ষমতা হুমকির মুখে পড়ছে, আর কার স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে— বিদ্যমান ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, না কি আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সর্বোপরি গণতন্ত্র কখনোই শ্রেণিস্বার্থের ঊর্ধ্বে ছিল না। এখনও নেই। প্রতিবাদ যখন পশ্চিমের স্বার্থ পূরণ করে, তখন তা ‘বিপ্লব’, আর যখন তা পশ্চিমকে চ্যালেঞ্জ জানায়, তখন হয়ে ওঠে ‘হিংসাত্মক দাঙ্গা’। ইরানে যখন খামেনেই জমানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন ওয়াশিংটন, লন্ডন, ব্রাসেলস হটাৎ করেই গণঅভ্যুত্থাণের প্রতি তাদের উৎসাহ নতুন করে খুঁজে পায়। বিক্ষোভকারীদের বলা হয় ‘স্বাধীনতার জন্য সাহসী যোদ্ধা’। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে তাঁদের সংঘাতকে গণ্য করা হয় ‘শাসকশ্রেণির বৈধতা হারানোর’ প্রমাণ হিসেবে। দমন-পীড়নের ঘটনাগুলি হয়ে ওঠে ‘মানবাধিকার’ নিয়ে গম্ভীর ঘোষণার উপলক্ষ। অন্যদিকে, শ্রমজীবী মানুষ যখন পুঁজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হন, তখন তারা দেখে ‘বেলাগাম হিংসা, চরম নৈরাজ্য, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ আর ভাঙচুর’। আর এখানেই লুকিয়ে আছে তাদের চরম ভণ্ডামি। রাজপথ যখন তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠে, তখন তারা তাকে ‘বিপ্লব’ বলে উদ্যাপন করে। আর শ্রমজীবী মানুষ যখন পুঁজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, তখন তাদের দমনে লেলিয়ে দেয় দাঙ্গা-পুলিশ। তখন শিকেয় ওঠে মানবাধিকার।
ফ্রান্সজুড়ে ১৭ অক্টোবর কয়েক লক্ষ মানুষ নেমে আসেন রাস্তায়। হাইস্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শ্রমিক থেকে অবসর নেওয়া মানুষ, ইয়েলো ভেস্ট (হলুদ ভেস্ট পরে থাকা আন্দোলনকারী) থেকে ট্রেড ইউনিয়ন অ্যাক্টিভিস্ট— সকলে। জীবনযাত্রার বেপরোয়া খরচ, ব্যয়সংকোচের নীতি ও সরকারের অবজ্ঞার মনোভাবের বিরুদ্ধে সবাই মিলে নেন একটি দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান। ফ্রান্সের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠনগুলির একটি জেনারেল কনফেডারেশন অব লেবার (সিজিটি) এই বিক্ষোভকে সক্রিয় সমর্থন জানিয়েছে। জিনিসের দাম কমানো, পেনশন বাড়ানো এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে।
ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র লা’উমানিতে পত্রিকার পরিচালক ফাবিয়ান গে লিখছেন, ‘এই দিনটি হটাৎ করে আসেনি। এর পিছনে রয়েছে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় বরাদ্দের অভাব নিয়ে হাইস্কুল ছাত্রদের কয়েকসপ্তাহ ধরে চলা বিদ্রোহ, জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের স্মৃতি এবং বাজেট থেকে ৫,৪০০ কোটি ইউরো কাটছাঁট প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনের ন্যায্য দাবিকে বেমালুম অস্বীকার। মানুষ এমন একটি ব্যবস্থার বোঝাকে আর বহন করতে নারাজ, যে ব্যবস্থা কেবলই তেল সংস্থাগুলির বিপুল মুনাফা আর শেয়ারহোল্ডারদের পকেট ভারী করে চলেছে। বিপরীতে, সরকারি পরিষেবাগুলিকে ধ্বংস করছে আর মজুরি ছাঁটাই করছে।’
ফ্রান্সের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং প্যারিসের উত্তরে শ্রমজীবী-প্রধান এলাকা থেকে নির্বাচিত সাংসদ ফাবিয়ান গে যখন একথা লিখছেন, তখন পর্তুগালের লিসবন শহরে উপচে পড়া শ্রমিক-সমাবেশ জানিয়েছে, ‘মজুরি-বৃদ্ধি, উন্নত পেনশন এবং উচ্চমানের সরকারি পরিষেবা-সহ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সামাজিক নিরপত্তা রক্ষার’ দাবি। ব্যানারে দৃপ্ত ঘোষণা, ‘জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের বিরুদ্ধে— পর্তুগালের জন্য নতুন পথ’। লিসবন ছাড়াও আরও তিন শহরে এই প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছিল জেনারেল কনফেডারেশন অব পর্তুগিজ ওয়ার্কার্স (সিজিটিপি-আইএন)। আন্দোলন এখানেই শেষ নয়। সিজিটিপি-আইএন ২৪ নভেম্বর বাজেট নিয়ে ভোটাভুটির দিন ফের বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে।
স্কুলে পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ, জরাজীর্ণ ক্লাসরুমের সংস্কার এবং শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত সেপ্টেম্বর থেকেই ক্ষোভের আগুনে উত্তাল ফ্রান্স। একুশে সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকন্ঠে ক্রাতেইয়ের একটি হাইস্কুলে শিক্ষক-সংকটে দেখা যায় প্রথম স্ফুলিঙ্গ। আন্দোলনকারীদের মূল অসন্তোষ স্কুলের কঙ্কালসার পরিকাঠামো, শিক্ষক-সংকট এবং সরকারের বাজেট ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে। দশদিনের মধ্যে দাবানলের মতো তা ছড়িয়ে পড়ে চল্লিশটির বেশি শহরে। মার্সেই, স্ত্রাসবুর, লিয়োঁ, লিলের মতো শহরগুলিতে ব্যানার, পোস্টার হাতে পথে নামেন হাজার-হাজার পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষ। ট্রাম্প যেমনই দাবি করুক, এর সঙ্গে ধর্মীয় অভিসন্ধির কোনও যোগ নেই। অক্টোবরের গোড়ায় নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প দাবি করেন, ‘প্যারিসের রাস্তায় যেটা চলছে, সেটা শিক্ষাখাতে খরচকে কেন্দ্র করে কোনও আন্দোলন নয়। বরং একে ইউরোপের মহান দেশে ইসলামপন্থীদের অরাজকতা ও দখল নেওয়ার চেষ্টা বলা যেতে পারে।’ এদিকে ফরাসি পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদীদের সংঘর্ষ ক্রমেই রক্তক্ষয়ী চেহারা নেয়। গণবিক্ষোভ দমনে ব্যবহার করা হয় গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ও কেটলিং (বিক্ষোভকারীদের ঘিরে ফেলে অবরুদ্ধ করার কৌশল)। পুলিশের ছোড়া গ্রেনেডে মারাত্মক আহত হয় এক পনেরো বছর বয়েসী কিশোর। তার একটি হাত উড়ে যায়।
‘বিপরীতে কিছু ভাড়াটে দাঙ্গাবাজ দোকান ভাঙচুর থেকে সরকারি ভবনে আগুন লাগায়। এর সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি আসলে গোটা দেশে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যারা এই আন্দোলনকে হেয় করতে চায়, তাদের হাতে তুলে দিতে চাইছে একটি সহজ অজুহাত। এই প্ররোচনাকারীরা মূল সমস্যাগুলি থেকে মানুষের মনোযোগকে সরিয়ে দিতে চাইছে। যারা এই আন্দোলনে শামিল হতে আগ্রহী, তাঁদেরকে দ্বিধাগ্রস্ত করে তুলতে চাইছে। সর্বোপরি, সরকারকে ‘শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের’ দোহাই দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে, যাতে মূল সামাজিক সমস্যাগুলি থেকে যায় আড়ালে।’ বলেছেন ফাবিয়ান গে।
এই গণআন্দোলনের শক্তি আসলে নিহিত রয়েছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভ, দৃঢ় সংকল্পের মধ্যে। মিছিলে দেখা গিয়েছে প্রত্যয়, হাসি-গান, সৃজনশীল স্লোগান। সঙ্গে সংহতির নানা রূপ। আর এই ঘটনাগুলি কোনওভাবেই যেন আড়ালে চলে না যায়। হাইস্কুলের ছাত্রদের সঙ্গে অবসর নেওয়া মানুষের মতবিনিময়, কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের সঙ্গে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীদের পথ হাঁটা— এই আন্দোলনের আসল শক্তি। লা’উমানিতে যথার্থই লিখেছে, ‘এই আন্দোলনের একমাত্র নায়ক হলেন মানুষ’। এবং এখানেই শেষ নয়। ৫ নভেম্বর, সিজিটি-সহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়ন নতুন করে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
ইতালিতে, দেশের সমস্ত স্কুলের জন্য নতুন অর্ডিন্যান্স জারি করেছেন নব্য-ফ্যাসিবাসী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সেখানে অ-ইতালিয় ছাত্রদের সংখ্যা ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোরখা ও নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। প্রতিবাদে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে আন্দোলন। ১৬ অক্টোবর ‘নো মেলোনি ডে’-তে রোম, মিলান, তুরিন-সহ ইতালির ৪০টি শহরে রাস্তায় নামেন লক্ষাধিক মানুষ। এক রোমেই রাস্তাতেই নামেন দশ হাজারের বেশি মানুষ। ‘স্কুলে কেউ বিদেশী নয়’, ‘স্কুলে বরাদ্দ করুন, যুদ্ধে নয়’— স্লোগান তোলে ছাত্ররা। বেলজিয়ামে শিক্ষাখাতে বাজেট ছাঁটাই ও অতিরিক্ত ফি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলার সময় লিয়েজ শহরে পুলিশ ব্যবহার করে জলকামান। বেলজিয়ামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কুইন্টিন এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে ‘বিশুদ্ধ হিংসা’ বলে দাবি করেন।
আলবেনিয়ায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভের রূপটি কিছুটা ভিন্ন। এবং রাজনৈতিক। সেখানে অর্থকষ্টের চেয়েও সরকারের দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী ইদি রামাজ পদত্যাগের দাবিই মুখ্য। ১৭ অক্টোবর তিরানায় শিক্ষামন্ত্রকের সামনে হাজার হাজার তরুণ বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের একটি বিতর্কিত উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। আন্দোলনকারীরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেও, ইদি রামা তা অস্বীকার করে চলেছেন। উলটে অভিযোগ করেছেন, বিরোধীরা অস্থিরতা তৈরি করতে আন্দোলনকে ব্যবহার করছে। ছাত্রদের বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে আলবেনিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি (পিকেএসএইচ)। সেইসঙ্গেই পুলিশি দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আন্দোলনরত ছাত্রদের পাশে শ্রমিকশ্রেণি-সহ সাধারণ মানুষকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রেড ইউনিয়নগুলির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ধর্মঘটের প্রস্তুতি। ৩০ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে একশটি বন্দরের ডক শ্রমিকরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং প্যালেস্তাইনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। ৫ নভেম্বরে সাধারণ ধর্মঘট হবে ফ্রান্সে, এগারোতে স্পেনে, ২০ নভেম্বর ইতালিতে, পঁচিশে গ্রিসে। পর্তুগালের ট্রেড ইউনিয়নও ধর্মঘট ডাকার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়নি।
ইউরোপের আমজনতা কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আসছেন। এখন মনে হচ্ছে, তারা আর এসব সহ্য করতে প্রস্তুত নন।
প্রকাশের তারিখ: ২৩-অক্টোবর-২০২৬
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
