Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

খাদ্য ও পুষ্টি: দাবি, প্রচার, বাস্তবতা

ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
তাছাড়া খাবার মানে তো কেবল ভাত আর গম নয়। ক্রিসিল-এর সমীক্ষা অনুযায়ী ২০২৩ সালের অগাস্টে একটা নিরামিষ থালির দাম ছিল ৩৩.৮ টাকা আর আমিষ থালি ৬৭.৩ টাকা। তার মানে একটা লোকের দু-বেলা দু থালা নিরামিষ খাবারের জন্য মাসে খরচ হবে ২০২৮ টাকা। ইউএনডিপি-র আয়ের হিসাব অনুযায়ী এটা স্পষ্ট যে, আমাদের দেশের ২৩ কোটিরও বেশি মানুষের এই সামর্থ নেই যে তাঁরা দিনে দু-বার করে খেতে পারবেন। বেঁচে থাকার জন্য অন্য যা যা মৌলিক চাহিদা থাকে সেগুলি বাদই দেওয়া যাক। ২০২৩-এর অক্সফ্যাম ইন্ডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী প্রত্যেক বছর এ দেশে ১৭ লক্ষ মানুষ ভাল করে খেতে পান না বলে নানান অসুখে ভুগে মারা যান।
Food and Nutrition: Claims, Promotion, Reality

এক ক্লিকে ফলো করুন মার্কসবাদী পথের হোয়াটসঅ্যাপWhatsapp logo Vectors & Illustrations for Free Download | Freepikচ্যানেল

গ্যারান্টি: ভারতে দিনের শেষে কেউ খালি পেটে ঘুমোতে যাবে না – এমনটাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের প্রতিটি মানুষের জন্য খাদ্য ও পুষ্টি সুনিশ্চিত করার গ্যারান্টি দিয়েছিলেন তিনি।
 
 

বাস্তবে কী হয়েছে?

খুব ধুমধাম করে ২০১৮ সালে মোদি সরকার পোষণ অভিযান আর অ্যানিমিয়া মুক্ত ভারত-এর ক্যাম্পেন শুরু করেছিল। যাই হোক! ২০১৫-১৬ সালে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের মধ্যে অ্যানিমিয়ার হার ছিল ৫৮.৬%। ২০১৯-২০ সালে সেটা বেড়ে গিয়ে হয়ে গেল ৬৭.১%। কিশোরী মেয়েদের মধ্যে অ্যানিমিয়ার হার ৫৪.১% থেকে বেড়ে হল ৫৯.১৫%। মহিলাদের মধ্যে ৫৩.৩% থেকে বেড়ে হল ৫৭.২%। এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের প্রতিক্রিয়া কী? সরকার এন এইচ এফ এস ৬-এর সমীক্ষাগুলি থেকে অ্যানিমিয়ার বিষয়টাই বাদ দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  

 ২০১৯-২০ সালের ফ্যামিলি হেলথ সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের ৩৫.৫%-এর বয়সের তুলনায় শরীরের উচ্চতা কম। ৩৫.৫% অর্থাৎ মোট সংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি। ওই একই বয়সী শিশুদের মধ্যে ১৯.৩% তাদের উচ্চতার সাপেক্ষে কৃশ আর অপুষ্ট। তাছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩২%-এর ওজন স্বাভাবিকের চাইতে কম।    

খাদ্যগ্রহণ

অগাস্ট ২০২২ আর জুলাই ২০২৩-এর মাঝখানের সময়টাতে ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিস শেষ হাউজহোল্ড কনসাম্পশান এক্সপেন্ডিচার সমীক্ষা করেছিল। এই সমীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল ভারতের পরিবারগুলির মাথাপিছু মাসিক খরচের একটা হিসাব করা। মাথাপিছু খরচের হিসেব অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার একেবারে তলায় থাকা কুড়ি শতাংশের মাসিক খরচ গ্রামাঞ্চলে ২১১২ টাকা ও শহরে ৩১৫৭ টাকার বেশি নয়। এর মানে হল গ্রামে একজন মানুষ প্রতিদিন সর্বাধিক ৭০ টাকা আর শহরে ১০০ টাকা অব্দি খরচ করতে পারছেন। এর মধ্যে রয়েছে খাবার, জামাকাপড়,স্বাস্থ্য,শিক্ষা,বাড়ির খরচ, যাতায়াতের খরচ, বার্ধক্য জনিত খরচ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উৎসব-অনুষ্ঠান ইত্যাদি সবকিছু। এই সবকিছুর জন্য দিনে বরাদ্দ ৭০ টাকা আর শহরে ১০০ টাকা।  

ইউনাইটেড নেশনস ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম-এর (ইউএনডিপি) হিসেব অনুযায়ী ভারতের ২৩ কোটি মানুষ শহরাঞ্চলে মাসে ১২৬৮ টাকার কম রোজগার করেন আর গ্রামে সেই রোজগার ১০৮৯ টাকারও কম।  

সামনে লোকসভা নির্বাচন। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে একটার পর একটা ‘মোদির গ্যারান্টি’ ঘোষিত হয়ে চলেছে। কিন্তু মোদি সরকার তার গত দশ বছরের সময়পর্বে কার্যত যা করেছে, তা হল, গরিব মানুষের কাজে লাগার মত যে কটি প্রোগ্রাম এবং স্কিম ছিল সেগুলোর থেকে ভরতুকি কমিয়ে দেওয়া।      

খাদ্যে ভর্তুকি হ্রাস 

২০২০-২১ আর্থিক বছরে কেন্দ্রীয় বাজেটে খাদ্যে ভরতুকির পরিমাণ ছিল ৫,৪১,৩৩০ কোটি। মোদি সরকার প্রত্যেক বছর একটু একটু করে এই ভরতুকির পরিমাণ কমিয়েছে। অবশেষে ২০২৪-২৫ এর বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে ২,০৫,২৫০ কোটি। এই একই সময়ে আবার সরকারি বিজ্ঞাপনগুলিতে গর্ব করে প্রচার করা হয়েছে প্রধান মন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা (পিএমজিকেএওয়াই) – এটিকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং ৮০ কোটির বেশি মানুষকে বিনামূল্যে ৫ কেজি করে খাদ্যশস্য দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং সরকার পরোক্ষে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে ৮০ কোটির বেশি সংখ্যক মানুষ বা আমাদের দেশের ৫৭% মানুষ গরিব - তাঁদের মধ্যে বিনা মূল্যে খাদ্যশস্য বন্টন করতে হচ্ছে। পরোক্ষে এটাও বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, এই সরকার আগামী পাঁচ বছরেও এই একই ধরণের নীতি ও পন্থা অনুসরণ করবে যাতে বৃহত্তর অংশের মানুষ গরিব আর ক্ষুধার্ত থেকে যায়। মানুষ সতর্ক হয়ে উঠছেন কারণ তাঁরা বুঝতে পারছেন প্রত্যেক নির্বাচনের আগে যে তথাকথিত গ্যারান্টিগুলি তাঁদের দেওয়া হয় সেগুলো স্রেফ ভোট-প্রচারের ‘ভাঁওতা’।  

তাছাড়া খাবার মানে তো কেবল ভাত আর গম নয়। ক্রিসিল-এর সমীক্ষা অনুযায়ী ২০২৩ সালের অগাস্টে একটা নিরামিষ থালির দাম ছিল ৩৩.৮ টাকা আর আমিষ থালি ৬৭.৩ টাকা। তার মানে একটা লোকের দু-বেলা দু থালা নিরামিষ খাবারের জন্য মাসে খরচ হবে ২০২৮ টাকা। ইউএনডিপি-র আয়ের হিসাব অনুযায়ী এটা স্পষ্ট যে, আমাদের দেশের ২৩ কোটিরও বেশি মানুষের এই সামর্থ নেই যে তাঁরা দিনে দু-বার করে খেতে পারবেন। বেঁচে থাকার জন্য অন্য যা যা মৌলিক চাহিদা থাকে সেগুলি বাদই দেওয়া যাক। ২০২৩-এর অক্সফ্যাম ইন্ডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী প্রত্যেক বছর এ দেশে ১৭ লক্ষ মানুষ ভাল করে খেতে পান না বলে নানান অসুখে ভুগে মারা যান। 

মোদি পরিচালিত বিজেপি সরকার যে নীতিগুলি প্রণয়ণ করেছে সেগুলির জন্য আমাদের দেশে কোটি কোটি গরিব মানুষ যাঁরা বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত, যাঁদের জন্য এই দেশের সমৃদ্ধি, তাঁরা প্রত্যেকদিন রাতে ঘুমোতে যেতে বাধ্য হন খালি পেটে। তাঁরা খিদের জ্বালা আর অপুষ্টিতে জর্জরিত কারণ মোদি সরকারের নীতি হল দেশি ও বিদেশি বৃহৎ কর্পোরেটদের জন্য সুবন্দোবস্ত করে দেওয়া যাতে তারা এ দেশের শ্রমজীবী মানুষের উৎপাদিত সম্পদ অবাধে লুঠ করতে পারে। তাই একটি ক্ষুধামুক্ত স্বাস্থ্যকর দেশ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে সম্মিলিত লড়াইকে শক্তিশালী করার জন্য মোদির নেতৃত্বাধীন এই বিজেপি সরকারের পতন নিশ্চিত করতেই হবে।   

ভাষান্তর: শিঞ্জিনী সরকার
ঋণ: সিআইটিইউ সেন্টার

আরো পড়ুন:
কর্মসংস্থান: দাবি, প্রচার, বাস্তবতা
সকলের জন্য বাড়ি: দাবি, প্রচার, বাস্তবতা
সঙ্কটে গণতন্ত্র! পরাস্ত করুন বিজেপিকে!
প্রতিহত করুন হিন্দুত্ব রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা! পরাস্ত করুন বিজেপিকে!
প্রতারিত মেহনতিরা, পরাস্ত করুন বিজেপিকে
প্রতারিত কৃষকেরা, পরাস্ত করুন বিজেপিকে


প্রকাশের তারিখ: ০৫-এপ্রিল-২০২৪
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫০ টি নিবন্ধ
০৭-মে-২০২৬

২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬

১৯-মার্চ-২০২৬

১৩-মার্চ-২০২৬

০৪-মার্চ-২০২৬

২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬