সাম্প্রতিক সংখ্যা

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা

আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
প্রতারিত কৃষকেরা, পরাস্ত করুন বিজেপিকে
ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এনরেগা প্রকল্পকে হত্যা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই সরকার সবচেয়ে বেশি কৃষক-বিরোধী, কৃষি-বিরোধী এবং কর্পোরেট তোষণকারী সরকার। স্বাধীনতার পর থেকে এমন একটা সরকার ভারত কখনও দেখেনি। সে কারণেই এই সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগ্রাম এত গভীর ও তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

ভারতে সম্ভবত কোটি কোটি কৃষক এবং খেতমজুরেরা ছাড়া জনগণের অন্য কোনও অংশ নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি–আরএসএসের সরকার কর্তৃক এত বেশি পরিমাণে প্রতারিত হননি। ন্যায্য পাওনার চেয়ে এত কম টাকাও জনগণের আর কোনও অংশকে দেওয়া হয়নি। অথচ কৃষক ও খেতমজুরেরাই দেশের সত্যিকারের ‘অন্নদাতা’। এই দুই অংশের কথা আলাদা করে আলোচনা করা যাক।
কৃষকদের জন্য গালভরা প্রতিশ্রুতি
মোদী সরকার কৃষকদের জন্য যে সব গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা হবে; স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ মাফিক ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) দেওয়া হয়েছে এবং ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানো হয়েছে; ফসল বিমায় বিরাট ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা (পিএমএফবিওয়াই) এবং এই বিমা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় কৃষকদের সহায়তা করেছে; কৃষকদের স্বার্থে অনেকগুলি ঋণ মকুব প্রকল্প কার্যকর করেছে মোদী সরকার; এবং গ্রামাঞ্চলে যে জমি অধিগ্রহণ নীতি চালু করা হয়েছে তা জনমুখী।
এমএসপি নিয়ে প্রতারণা
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকারি নথি ও মিডিয়া থেকে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার দাবি স্রেফ উবে গেছে। সরকারের করা ২০১১–১২ এবং ২০১৮–১৯–এর পরিস্থিতি মূল্যায়ন সমীক্ষা (সিচুয়েশন অ্যাসেসমেন্ট সার্ভে) দেখাচ্ছে যে, ‘চাষ’ থেকে কৃষিজীবী পরিবারগুলির মাসিক আয় প্রকৃত অর্থে ২৮৫৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৮১৬ টাকা (অর্থাৎ কমেছে ১.৪ শতাংশ)। এটাই হল কৃষি থেকে আয় দ্বিগুণ করার নমুনা!
২০১৪ সালের ভোটপ্রচারে মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করবেন। অর্থাৎ এমএসপি নির্ধারণ করা হবে, সি২ উৎপাদন খরচের ৫০ শতাংশ বেশি হিসাবে (খরচ হিসাবে যা যা মেটানো হয়েছে সেই মোট টাকা, পারিবারিক শ্রমের আরোপিত মূল্য, মালিকানাধীন মূলধনী সম্পদের মূল্যের ওপর সুদ, লিজ নেওয়া জমির জন্য মেটানো খাজনার পরিমাণ এবং মালিকানাধীন জমির খাজনামূল্য)। অথচ নির্বাচিত হওয়ার পর এক বছর কাটতে না কাটতেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টে বিজেপি সরকার হলফনামা দিয়ে জানায়, তারা এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবে না কারণ এই সুপারিশ কার্যকর করা হলে তা ‘বাজারকে বিকৃত করবে’।
বস্তুত, উৎপাদনের এ২+এফএল খরচের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি এমএসপি ধার্য করে মোদী সরকার কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণাই করেছে। কারণ মালিকানাধীন মূলধনী সম্পদের মূল্যের ওপর সুদ, লিজ নেওয়া জমির জন্য দেওয়া খাজনা এবং মালিকানাধীন জমির খাজনা–মূল্য এর মধ্যে ধরা হয়নি। এই ভুল পদ্ধতির ফলে যে ২৩টি ফসলের জন্য এমএসপি ঘোষণা করা হয়েছিল, তার প্রত্যেকটিতে কুইন্টাল পিছু ৫০০–৬০০ টাকা পর্যন্ত কম পেয়েছেন কৃষকেরা।
আর এমএসপি সম্পর্কে বলতে গেলে, আগেকার বছরগুলির তুলনায় মোদী সরকারের আমলে অনেক ধীর গতিতে বাড়ছে এমএসপি বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য। ২০০৩-০৪ এবং ২০১২-১৩ সালের মধ্যে, প্রধান প্রধান খাদ্যশস্যের এমএসপি গড়ে বছরে বেড়েছে ৮ থেকে ৯ শতাংশ হারে। কিন্তু ২০১৩-১৪ থেকে ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে প্রধান প্রধান খাদ্যশস্যের এমএসপি বেড়েছে গড়ে বছরে মাত্র ৫ শতাংশ হারে। আর এত কম বৃদ্ধি তখনই ঘটছে যখন বীজ, সার, কীটনাশক, ডিজেল, বিদ্যুৎ এবং জলের মতো চাষের উপকরণগুলির দাম দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে।
অথচ কেরলের এলডিএফ সরকারের সঙ্গে ফারাকটা দেখুন। ২০২৩-২৪ সালের জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যখন ধানের এমএসপি ঘোষণা করেছে কুইন্টাল পিছু ২১৮৩ টাকা, তখন কেরলের এলডিএফ সরকার তাদের ধান চাষিদের এমএসপি দিচ্ছে কুইন্টাল পিছু মোট ২৮২০ টাকা যার মধ্যে আবার বোনাসও ধরা হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রে আত্মহত্যার রেকর্ড
ভারতে কৃষিক্ষেত্রের দুর্দশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হল গত ২৫ বছরে, অর্থাৎ ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে (এরপর ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরোর তরফে আর কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি) কৃষিক্ষেত্রে সাড়ে তিন লক্ষের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, ২০১৪ থেকে ২০২২ —এই ৮ বছরের মধ্যে, অর্থাৎ মোদির শাসনকালে, আত্মঘাতী হয়েছেন ১,০০,৪৭৪ জন। এর মানে, কৃষিক্ষেত্রে মোট যত জন আত্মঘাতী হয়েছেন তাদের মধ্যে ১,০০,৪৭৪ জনের সংখ্যাটা অনুপাতের বিচারে অনেক বেশি ভারি।
আসলে এই সংখ্যাটাও সঠিক হিসাব নয়, বরং কমিয়ে দেখানো। কারণ টিএমসি শাসিত পশ্চিমবঙ্গের মতো কয়েকটি রাজ্য সরকার অত্যন্ত বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের রাজ্যে ঋণগ্রস্ততার কারণে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা একটাও ঘটেনি। অথচ প্রকৃত সত্য ঠিক এর বিপরীত।
কর্পোরেটদের ঋণ মকুব, কৃষকদের নয়
কৃষকদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় স্তরের ঋণ মকুব প্রকল্প ঘোষণা এবং কার্যকর করা হয়েছিল ২০০৮ সালে। ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কোনও কৃষি ঋণ মকুব প্রকল্প ঘোষণা করেনি। অন্যদিকে, গত ১০ বছরে, ব্যাঙ্কগুলি কর্পোরেটদের ১৫ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ স্রেফ মুছে ফেলেছে। অথচ কৃষকদের কাছ থেকে ব্যাঙ্কের মোট পাওনা যে ১৮ লক্ষ কোটি টাকা, তাতে কোনও ছাড়ই দেওয়া হয়নি।
দেশের কৃষি সঙ্কটের শিকড় এতটাই গভীরে যে এখন সারা দেশজোড়া কৃষি ঋণ মকুব করাটা খুবই দরকার। এমএসপি বাড়ানো, চাষের উপকরণের খরচ কমানো, কৃষক স্বার্থবাহী ফসল বিমা প্রকল্প, এই সব পদক্ষেপগুলি নেওয়া দরকার। একইসঙ্গে কৃষিক্ষেত্রের দুর্দশার কাঠামোগত কারণগুলিরও মোকাবিলা করা দরকার যাতে কৃষকদের আয় বাড়ে এবং তাঁরা যেন বার বার ঋণফাঁদে জড়িয়ে না পড়েন।
কর্পোরেট বিমা যোজনার ব্যর্থতা
২০১৬ সালে সরকার ঢাকঢোল পিটিয়ে চালু করেছিল পিএমএফবিওয়াই প্রকল্প। কিন্তু এই প্রকল্প সরকার কার্যকর করতে ব্যর্থ এবং গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পের আওতা ক্রমশই সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট এবং ঝাড়খণ্ডের মতো অনেক রাজ্যই পিএমএফবিওয়াই প্রকল্পের বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তারা নিজেদের শস্য বিমা প্রকল্প চালু করেছে। .
পিএমএফবিওয়াই প্রকল্পের আওতাধীন এলাকা যা ২০১৬-১৭ সালে ছিল ৫৭০.৮ লক্ষ হেক্টর, ২০২২-২৩ সালে কমে হয় ৪৮৭.৪ লক্ষ হেক্টর। পিএমএফবিওয়াই-এর অধীনে বিমার যত দাবি মেটানো হয়েছে তার পরিমাণও কমেছে। এই খাতে ২০১৮ সালের মেটানো হয়েছিল ২৯,৩৩৭ কোটি টাকা এবং ২০২২ তা কমে হয়েছে ১৮,০৪৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি বিমা সংস্থাগুলি ২০১৬-১৭ থেকে ২০২১-২২ এর মধ্যে একত্রে মুনাফা কামিয়েছে প্রায় ২৪,৩৫০ কোটি টাকা। এরই পাশাপাশি দাবি মেটানো হয়নি এমন বিমার সংখ্যাও ক্রমশ বেশি বেশি করে বেড়েছে।
কর্পোরেটের জমি লুঠ
২০১৩ সালে রাইট টু ফেয়ার কমপেনসেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি ইন ল্যান্ড অ্যাকুইজিসন রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসেটেলমেন্ট (এলএআরআর) আইনটি সংশোধন করা হয়েছিল। এই সংশোধনীর ফলে কৃষকেরা তাঁদের ন্যায্য পাওনার চেয়ে কম টাকা পেয়েছেন। কর্পোরেট লবিকে তুষ্ট করার জন্য ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর মোদি সরকার এলএআরআর অ্যাক্টকে সংশোধন করে একটি অর্ডিন্যান্স জারি করে। ২০১৫ সালে তারা লোকসভায় এলএআরআর সংশোধনী বিল পাস করায়। তবে বিরোধী দলগুলির এবং কৃষক সংগঠনগুলির কট্টর বিরোধিতার জেরে বিরোধীরা বিলটিকে রাজ্যসভায় আটকে দেন। তবে অনেক রাজ্যই এলএআরআর অ্যাক্ট ২০১৩র সংশোধনীটিকে কাজে লাগিয়েছে জমি অধিগ্রহণে অনুমতি নেওয়া এবং সামাজিক প্রভাব পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার ধারা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য। এর ফলে অকৃষিকাজে লাগানোর জন্য রাজ্যগুলি লক্ষ লক্ষ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে। উপজাতি এলাকায় কর্পোরেটরা যাতে সহজে জমি দখল করতে পারে সেজন্য ইন্ডিয়ান ফরেস্টস অ্যাক্ট ১৯২৭, ফরেস্ট কনজার্ভেশন অ্যাক্ট ১৯৮০ ইত্যাদি আইনগুলিতে সংশোধনী আনা হয়েছে। কর্পোরেট স্বার্থগোষ্ঠী যাতে জমি লুঠ চালিয়ে যেতে পারে, সেবিষয়ে একেবারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মোদি সরকার। কৃষকদের স্বার্থরক্ষা শুধুই ভাঁওতা।
কৃষি শ্রমিকদের বিষয়ে সরকারের দাবি
মোদী সরকার দাবি করেছে যে এনরেগা (এমজিএনআরইজিএস) প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, গ্রামীণ জনগণের মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং এখন গ্রামীণ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা রয়েছে। মোদী সরকার আরও দাবি করছে যে, পেনশন প্রকল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
এনরেগা প্রকল্পের ওপর হামলা
গ্রামীণ গরিবদের জীবন-জীবিকার জন্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির কল্যাণে এনরেগা প্রকল্পের মূল্য প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও, মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এনরেগা প্রকল্পকে হত্যা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। চাহিদাভিত্তিক এই কর্মসংস্থান প্রকল্পকে মোদী সরকারের আমলে আরও দুর্বল করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে অর্থবরাদ্দ কমিয়ে, মজুরির হার কম রেখে, মজুরি না দিয়ে এবং সামাজিক অডিট পরিকাঠামোর গুরুত্বকে খাটো করে। সম্প্রতি এই প্রকল্পে যে সব পরিবর্তন আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, অনলাইনে হাজিরা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, জাতপাতের ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করা, এবং আধার-সংযুক্ত মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে। এর ফলে সবকিছুই আরও খারাপের দিকে গেছে। শিক্ষাবিদ ও অধিকার কর্মীদের একটি কনসোর্টিয়াম লিবটেক ইন্ডিয়া-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মাসে এই ব্যবস্থা থেকে ৭.৬ কোটি জব কার্ড বাতিল করা হয়েছে।
একের পর এক কেন্দ্রীয় বাজেটে বিজেপি সরকার এনরেগা প্রকল্পকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করেছে। মোট বাজেটের অনুপাতে এনরেগা প্রকল্পে সার্বিক বরাদ্দও দারুনভাবে কমেছে। ২০১৩-১৪ আর্থিক বছরে মোট বাজেটের ১.৯৮ শতাংশ বরাদ্দ হয়েছিল এনরেগা প্রকল্পে। ২০২৩-২৪ সালের বাজেটে এই অনুপাত কমে হয়েছে ১.৩৩ শতাংশ। সংশোধিত হিসাবের সঙ্গে তুলনা করা হলে চলতি অর্থবর্ষে (২০২৩-২৪) এই প্রকল্পে বরাদ্দ এক পয়সাও বাড়েনি। অন্তর্বর্তী বাজেটে এনরেগা প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছে ৮৬,০০০ কোটি টাকা। অথচ চলতি বছরে এনরেগা প্রকল্পে মোট খরচ হয়েছে ৮৮,৩০৯.৭২ কোটি টাকা।
এর ফলে ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি থাকা সত্ত্বেও, গড়ে যতদিন কাজ দেওয়া হয়েছে তা কখনই ৫০ দিনকে ছাপিয়ে যায়নি। ব্যতিক্রম ছিল শুধুমাত্র অতিমারির বছর ২০২০-০২১ (৫১.৫২ দিন)। গত বছর গড় কাজের দিন ছিল মাত্র ৪৭। এনরেগা প্রকল্পে শ্রমিকদের গড় মজুরি দেওয়া হয়েছে ২০২১-২২ সালে ২০৮ টাকা এবং ২০২২-২৩ সালে ২১৬.৫৭ পয়সা, গ্রামোন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি যতটা মজুরির সুপারিশ করেছিল ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ সালে দেওয়া মজুরি ছিল তার চেয়ে অনেক কম।
মজুরি কমেছে
প্রধান প্রধান কৃষি ও অকৃষির পেশায় মজুরি ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৮-১৯এর মধ্যে বছরে ৩ শতাংশ হারে কমেছে। মজুরি আরও অনেক বেশি কমেছে কোভিড পর্বে। গ্রামীণ মজুরি কমার প্রধান কারণগুলি হল নোটবন্দি, জিএসটি ব্যবস্থা চালু করা, এনরেগা সহ অনেকগুলি সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ কমানো এবং ভর্তুকি হ্রাস।
এককথায়, গ্রামীণ এলাকায় সমস্ত কৃষি ও অকৃষির পেশায় মজুরির দর বৃদ্ধির ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২২-২৩, এই ৯ বছরের মধ্যে। প্রকৃত হিসাবে, কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন পেশায় ২০১৪-১৫ থেকে ২০২২-২৩ পর্যন্ত এই ৯ বছরে মজুরির দর বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকারও কম। ২০১৪-১৫ থেকে ২০২২-২৩ এর মধ্যে বেশির ভাগ পেশায়, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল বছরে এক শতাংশেরও কম।
ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে অফিসের (এনএসএসও) সমীক্ষার তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ পরিবারগুলির প্রায় ৪১ শতাংশের হাতে ২০১৮-১৯ সালে কোনও কৃষি জমির মালিকানা ছিল না। অল্প কিছু লোকের হাতে বহু সংখ্যক জমি কেন্দ্রীভূত থাকা, ভারতের গ্রামগুলিতে এখনও এটা বাস্তব ছবি। ২০১৮-১৯ সালের এনএসএসও-র তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে যে, গ্রামীণ পরিবারগুলির মধ্যে একেবারে ওপরের দিকে থাকা ২০ শতাংশ পরিবারের হাতে রয়েছে দেশের মোট জমির ৭৬ শতাংশের মালিকানা। গত কয়েক দশকে জমির মালিকানার এই কেন্দ্রীকরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওপরে আমরা দেখেছি কীভাবে কর্পোরেট গোষ্ঠীগুলি জমির দখল নিয়েছে।
শেষে একথা বলতে হয় যে, মোদী সরকার সবচেয়ে বেশি কৃষক-বিরোধী, কৃষি-বিরোধী এবং কর্পোরেট তোষণকারী সরকার। স্বাধীনতার পর থেকে এমন একটা সরকার ভারত কখনও দেখেনি। সে কারণেই এই সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগ্রাম এত গভীর ও তীব্র আকার ধারণ করেছিল। সংযুক্ত কিসান মোর্চা-র (এসকেএম) নেতৃত্বে ২০২০-২১ সালে এক বছরেরও বেশি সময় জুড়ে যে আইকন সদৃশ লড়াই হয়েছে, তাতে দিল্লি সীমানায় লক্ষ লক্ষ কৃষককে সমাবেশিত করা হয়েছিল, কৃষকদের সমাবেশিত করা হয়েছিল গোটা দেশ জুড়ে, এবং সেই লড়াই ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছিল তিনটি কালা ও ঘৃণিত কৃষি আইন মোদি সরকারকে বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য করে। কিন্তু জমি ও জমিতে উৎপন্ন ফসল কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার, কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের আরও নিঃস্বকরণের প্রক্রিয়াকে তীব্র করে তোলার অ্যাজেন্ডায় এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মোদী সরকার। সেই কারণে যে কোনও মূল্যেই এই সরকারকে পরাস্ত করতে হবে! মোদী যেসব গ্যারান্টি এই ভোটের আগে দিচ্ছে সেসব আদতে প্রতারণা। তা আমরা গরীব মধ্যবিত্তরা নিজেদের অবস্থা থেকেই বুঝছি। মোদীর গ্যারান্টি শুধু কর্পোরেটদের হাতে আরও মুনাফা তুলে দেওয়ার!
কৃষিকে বাঁচান! কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের বাঁচান!! পরাস্ত করুন বিজেপিকে।
সৌজন্য: পিপলস ডেমোক্রেসি
অনুবাদ: সুচিক্কণ দাস
আরো পড়ুনঃ
সঙ্কটে গণতন্ত্র! পরাস্ত করুন বিজেপিকে!
প্রতিহত করুন হিন্দুত্ব রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা! পরাস্ত করুন বিজেপিকে!
প্রতারিত মেহনতিরা, পরাস্ত করুন বিজেপিকে
প্রকাশের তারিখ: ০১-এপ্রিল-২০২৪
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
