Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

যুদ্ধ একেবারেই কোনও মাতামাতি করার বিষয় নয়

বিজয় প্রসাদ
বন্ধুত্বপূর্ণ আবহ এবং সৌজন্য, শালীনতা বোধের ক্ষয় করে যুদ্ধ, এখন জিপিএস প্রযুক্তি এবং উন্নত রাডার অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে অনেক দূরে দেখতে পায়। এই পরিস্থিতিতে একুশ শতকে যখন কোনও সরকার জোর করে ব্ল্যাকআউট চাপিয়ে দেয়, তখন বোঝা যায় কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য নয়। আসলে চারপাশ অন্ধকার করে দিয়ে মানুষের মনে এই ভাব জাগিয়ে তোলা হয় যে তারা যুদ্ধের মধ্যে রয়েছেন। এবং এভাবে নাগরিকদের মনে ভয়ের সংস্কৃতি জাগিয়ে তোলা হয়। এভাবে যুদ্ধকে একেবারে বাড়ির উঠোনে এনে ফেলা হয় এবং দেশের জনগণকে যুদ্ধের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে ফেলা হয়। আর সেই যুদ্ধের সংস্কৃতি মানুষের চেতনায় ঘৃণাকে পল্লবিত করে তোলে।
War is no joke

যুদ্ধক্ষেত্র এবং সংলগ্ন এলাকাগুলো একেবারে কুৎসিৎ জায়গা। তুমুল বিস্ফোরণের আওয়াজ এবং ধুলোর কুণ্ডলী, রক্তের অক্ষরে আঁকা সব দৃশ্য। যুদ্ধক্ষেত্রে ভিড় জমে তরুণদের যাদের বেশিরভাগই ভয়ে ত্রস্ত এবং সেই ভীতি তাদের দেহে আড্রেনালিনের ক্ষরণ বাড়ায় যা তাদের তাড়িত করে মারতে কিংবা মরতে। যদি তাদের শরীরে উপযুক্ত পরিমাণ আড্রেনালিন ক্ষরণ না হয়, তখন তারা খোঁজে জোরালো ড্রাগ ক্যাপ্টাগন (অ্যামফিটামিন এবং থিওফাইলিনের মিশ্রণ) কিংবা খোঁজে কোনও নারকোটিক যেগুলির নেশা তাদের ভয় ও উদ্বেগকে দমিয়ে রাখে। শ্রমিক শ্রেণির তরুণ প্রজন্ম যাদের দেশপ্রেমিক কর্তব্যের নামে যুদ্ধে পাঠানো হয়, আসলে বন্দুক তারা ছোড়ে না। বেশির ভাগ সময় বন্দুকের গুলি ছোড়া হয় ভয়ে। যখন যুদ্ধ মূলত যান্ত্রিক হয়ে দাঁড়ায়, অনেক দূর থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, তখন যারা সেসবের বোতাম টেপে তাদের মধ্যে মানবিকতা-বিচ্ছিন্ন, একটা বৈজ্ঞানিক স্পর্শকাতরতা তৈরি হয় — তারা তখন আর নিজেদের মৃত্যুর মেশিন ভাবে না, তারা নিজেদের মনে করে নিছক মেশিনের ইঞ্জিনিয়ার। তারা তাকিয়ে থাকে টেলিভিশনের স্ক্রিনের দিকে যেখানে কোনও মানুষ দেখা যায় না। দেখা যায় তাপমাত্রার গ্রাফিকস, লক্ষ্যবস্তুর নাম, তখন তা হয়ে ওঠে স্রেফ বিপদের ভিডিও গেম। অথচ যেদিক লক্ষ্য করে এই সব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছে সেখান তৈরি হয় বিপুল বিস্ফেরণের শব্দ, ধুলো, ধোঁয়া এবং রক্তস্রোত যা একটা সাধারণ যুদ্ধক্ষেত্রে দেখা যায়। 

একুশ শতকের যুদ্ধগুলি আগেকার যুগের যুদ্ধের মতো নয়। সেখানে ফ্রন্টলাইনই ছিল দুই বা ততোধিক পক্ষের সেনার সামনাসামনি হওয়ার জায়গা। এখনকার যুদ্ধে ফ্রন্টলাইন যদি কিছু থেকেও থাকে – এখন যেমন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে রয়েছে — সেখানেও যুদ্ধের পশ্চাদভূমি থেকে বহু আক্রমণ রচনা করা হচ্ছে আকাশ থেকে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে। কারণ যে সব ক্ষেপণাস্ত্রকে চিহ্নিত করে ঠেকানো যায় না, সেগুলি যুদ্ধরত দেশগুলির বহু ভিতরের এলাকায় ঢুকে পড়তে পারে। যদি যুদ্ধটা হয়ে দাঁড়ায় পরমাণু যুদ্ধ, তাহলে আগেকার দিনের রক্ষণাত্মক কৌশলের আর কোনও মূল্যই থাকে না। ১৯৫০ এর সময়কার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে যুদ্ধ ম্যানুয়াল ছিল, সেখানে বলা হত পরমাণু হামলা হলে ছাত্রদের ডেস্কের নীচে লুকিয়ে পড়তে। এই পরামর্শ তখন ছিল অবাস্তব এবং এখন তা হাস্যকরও বটে। ভয়ঙ্কর হামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনও উপায় নেই, তা সে পরমাণু হামলা হোক কিংবা প্রথাগত হামলাই হোক।  গত কয়েক বছরে গাজায় এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৫০০ পাউন্ডের বোমা যা ইজরায়েলি বিমান  থেকে ফেলা হয়েছে তাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এলাকা পর এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইরাকের ফাল্লুজা ও রামান্দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু বিপুল ওজনের বোমাই ফেলেনি, ফেলা হয়েছে এমন বোমা যাতে ব্যবহার করা হয়েছে কমিয়ে আনা তেজস্ক্রিয়তা যুক্ত ইউরেনিয়াম। এর ফলে পরমাণু বোমা ও প্রচলিত বোমার মধ্যে ফারাক দাঁড়িয়েছে নিছকই একটা কথার কথা। কারণ কম তেজস্ক্রিয়তা যুক্ত ইউরেনিয়াম বোমা বিস্ফোরণের কয়েক বছর পরেও যে সব শিশুর জন্ম হয়েছে, তারা খুব বড় ধরনের শারীরিক ত্রুটি নিয়েই জন্মেছে।

বন্ধুত্বপূর্ণ আবহ এবং সৌজন্য, শালীনতা বোধের ক্ষয় করে যুদ্ধ। এখন জিপিএস প্রযুক্তি এবং উন্নত রাডার অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে অনেক দূরে দেখতে পায়। এই পরিস্থিতিতে একুশ শতকে যখন কোনও সরকার জোর করে ব্ল্যাকআউট চাপিয়ে দেয়, তখন বোঝা যায় কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় মানুষকে নিরাপদে রাখার জন্য নয়। আসলে চারপাশ অন্ধকার করে দিয়ে মানুষের মনে এই ভাব জাগিয়ে তোলা হয় যে তারা যুদ্ধের মধ্যে রয়েছেন। এবং এভাবে নাগরিকদের মনে ভয়ের সংস্কৃতি জাগিয়ে তোলা হয়। এভাবে যুদ্ধকে একেবারে বাড়ির উঠোনে এনে ফেলা হয় এবং দেশের জনগণকে যুদ্ধের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে ফেলা হয়। আর সেই যুদ্ধের সংস্কৃতি মানুষের চেতনায় ঘৃণাকে পল্লবিত করে তোলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মূল ভিত্তিই ছিল ভয়কে পল্লবিত করে তোলা। সারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মনে এই ভয় জাগিয়ে তুলতে হবে যে তারাও সন্ত্রাস হামলার টার্গেট হতে পারেন। এমনকি এই অবাস্তব ভয়কেও জাগিয়ে তোলা হয় যে কানসাসের একটা ছোট শহরেও হামলা চালাতে পারে আল কায়দা। যুদ্ধ কখনও কি সব মানুষকে এক জায়গায় এনেছে? তাঁরা বিপদের মধ্যে রয়েছেন  - এই অনুভূতি কি তাঁদের পরস্পরের  ওপর নির্ভরতা বাড়াতে পেরেছে? পণ্ডিতেরাই দেখিয়েছেন, দেশ যখন দীর্ঘায়ত যুদ্ধের পর্বে থেকেছে, তখনই জিনিসের আকাল দেখা দিয়েছে এবং সেই জিনিস পাওয়ার জন্যে তীব্র প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। আবার প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কেও ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। সেই কারণে, একই সঙ্গে সম্ভবত জাতীয়স্তরে একটা বন্ধুত্ব ও আস্থা বোধও গড়ে উঠেছিল। ঠিক এই কারণেই একটা যুদ্ধ চলাকালীন এত বেশি করে প্রচার করা হয় ‘জাতীয় ইচ্ছা’র কথা। যেন এসবই মোটা মাইনের চাকরি করা টিভি অ্যাঙ্করের মুখের কথাগুলি থেকে একেবারে স্বতঃসিদ্ধভাবে পড়ে ফেলা যাবে। যখন লোকেদের মন খুলে কথা বলার ইচ্ছার ওপর লাগাম পরানো হয়েছে, যখন বেশির ভাগ লোক এমনকী চালু সংঘাত সম্পর্কেও বিশদে কিছুই জানে না, তেমন একটা সময়ে কে জানবে যে ‘জাতির’ সত্যিকারের ‘মনোভাব’ কি? উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভারতে ইংরেজি খবর সবচেয়ে বেশি যারা দেখেন তারা মোট জনসংখ্যার খুবই স্বল্প একটা অংশ। সেক্ষেত্রে যদি আমরা অ্যাঙ্করের মুডকে ধরি তাহলে তা মোটেই ‘দেশের মনোভাব’ এর কোনও প্রতিফলন বলে ধরে নেওয়া যায় না।  প্রীতি ও বন্ধুত্বের আবহকে, সৌজন্য ও শালীনতা বোধকে খর্ব করাটা অত সহজ নয়, কারণ এগুলোই বেশির ভাগ লোকের স্বাভাবিক জীবনধারা। আসলে প্রচারের লক্ষ্যই হল এই পারস্পরিক সহমর্মিতা বোধকে ধ্বংস করা। যুদ্ধোন্মাদনা তৈরিই করা হয় ঘৃণা জাগিয়ে তোলার জন্য, সুদান যুদ্ধে দুপক্ষের মিডিয়ার ভূমিকায় যা ছিল স্পষ্ট। আবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমের উগ্র জাতীয়তাবাদী যুদ্ধ জিগিরেও তা স্পষ্ট।  

যখন আমি প্রথম ইরাকে গেলাম তখন যুদ্ধ বিষয়ে অভিজ্ঞ এক সাংবাদিক আমাকে দারুণ একটা কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, আজকের দিনে ফ্রন্টলাইন থেকে রিপোর্টিং করতে হলে মাত্র কয়েকটা জিনিসই জানলে চলে। একজন রিপোর্টার যদি যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের সঙ্গে দেখা করতে চান তাহলে সেটা সব সময় সম্ভব নয়। কারণ কমান্ডাররা চান মিডিয়া থেকে তাদের সৈনিকদের আড়াল করে রাখতে। এক্ষেত্রে একজন রিপোর্টার সৈনিকদের মনোবল আন্দাজ করতে পারেন। আবার কোনও রিপোর্টার যদি ভাগ্যবান হন তাহলে রাজনৈতিক নেতারা যুদ্ধক্ষেত্র সম্পর্কে যে সব মিথ্যা বলছেন, তিনি তার স্বরূপ উন্মোচন করে দিতে পারেন। এটা সম্ভব হতেও পারে, তবে হবেই এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। সেই সাংবাদিকের এই উপদেশটি ছিল খুবই ভাল। সাহেলে নাইজার ও লিবিয়ার মাঝখানে থাকা বন্ধ্যা, নিষ্ফলা জমিতে আমি কয়েকজন আল কায়দা যোদ্ধার সঙ্গে কথা বলি। তাতেই আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ওই যুদ্ধক্ষেত্রে আদর্শবাদী সন্ত্রাসবাদীদের চেয়ে সিগারেট ও অস্ত্র পাচারকারীর সংখ্যাই বেশি। তবে অন্তত এক দশক ধরে যে সংঘাত আফ্রিকার এই অঞ্চলটিকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলছিল, সেই সঙ্ঘাত সম্পর্কে আর বেশি কিছু জানতে আমি পারিনি। একটা যুদ্ধ সম্পর্কে কুড়িয়ে বাড়িয়ে সবচেয়ে ভাল জ্ঞান সঞ্চয় করা যায় পাঁচতারা হোটেল থেকে, যেখানে অস্ত্র চুক্তিগুলো হয়। আরও খবর পাওয়া যায় রাজনৈতিক আলাপ আলোচনার উচ্চস্তরের আবহ থেকে যেখানে বড়লোকেরা তাদের নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী বিষয়গুলি নিষ্পত্তি করার জন্য সীমান্তপারের সঙ্গে কথা চালাচালি করে। পুঁজিবাদী সংবাদমাধ্যমের নিউজ অ্যাঙ্কররা এবং সোশাল মিডিয়া নানা ধরনের ছবি ও ভিডিও দিয়ে দর্শকদের একেবারে নড়িয়ে দেয়। ওই সব ছবি ও ভিডিওর ব্যাপক প্রচার চলতে থাকে, কিন্তু কেউই বলতে পারে না সেগুলো আদৌ সত্য কিনা। সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ছড়িয় পড়া সংঘাতের সময় সোশাল মিডিয়া গুজবে একেবারে ভরপুর হয়ে উঠেছিল যা আবেগে সুড়সুড়ি দিচ্ছিল, এবং পুঁজিবাদী অ্যাঙ্করেরা এমন সব ভুয়ো গল্প প্রচার করেছিল যে, এমনকী তাদেরও পরে এই সব মিথ্যা প্রচারের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়েছে। এই অতিশয়োক্তি ও মিথ্যার বেসাতি নাগরিকদের সঠিক খবর কিছুই জানাতে পারে না অথবা ঠিক কী ঘটছে সেবিষয়ে একটা সুস্থ আলোচনার আয়োজনও করতে পারে না। অথচ পুঁজিবাদী অ্যাঙ্করদের ছক তৈরি করে দেওয়া হয়েছে যুদ্ধদশার এমন একটা  সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য যা গোলাগুলি বন্ধ হওয়ার পরেও সহজে প্রত্যাহার করে নেওয়া যায় না। এই সব মিথ্যা ও অতিশয়োক্তির প্রভাব একটা দেশের সংস্কৃতির প্রাণের একেবারে গভীরে অনুপ্রবেশ করে যায়। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ একটা প্লেবুকের মতো। অন্য দেশের সরকারগুলোও এখন সহজেই এই ধরনের যুদ্ধ চালু করে ফেলেছে। এই সব যুদ্ধের দৃষ্টিভঙ্গিটা হল, যে কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলার মোকাবিলা করা যায় সেই হামলা সম্পর্কে তদন্ত করে নয়। বরং, তদন্ত খারিজ করে আরেকটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে যারা ‘সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়’ দেয়। এই যুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদীদের শিবিরে’ ‘নিখুঁত হামলা’ করা হয় এবং এসব করা হয় আন্তর্জাতিক সব আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। এই ছকটাই এখন ব্যবহার করা হয়েছে মধ্য এশিয়া থেকে উত্তর আফ্রিকা, আফগানিস্তান থেকে ইরাক, লিবিয়া থেকে সিরিয়ার মতো বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র ও সমাজকে ধ্বংস করার কাজে। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির নেতাদের হত্যা করার  কাজটি করতে গিয়ে এই সব দেশকে যে ঐতিহাসিক মূল্য দিতে হয়েছে, তা এককথায় চরম। এবং সন্ত্রাসবাদীদের নেতাদের হত্যা করার পরেও, এই সব সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি উবে যায় না, বরং আরও বিষাক্ত ঘা এর চেহারা নেয়। এরা কেন আবারও ফিরে আসে তার ভেতরের কারণটা হল, এখনকার মতো শ্বাসরোধ করা হলেও পরে তারা আরও কদর্য রূপে ফিরে আসে। বহু বছর আগে দোহায় (কাতার) হামাসের খালিদ মেহসাল বলেছিলেন, যদি পশ্চিমী শক্তগুলি মনে করে হামাস বিপজ্জনক শক্তি, তাহলে তাদের ধারণাই নেই যে হামাসের নীচের তলায় ঠিক কী চলছে এবং  তরুণদের মনের ভিতরে কোন ধরনের মনোভাবকে একেবারে বদ্ধমূল করে দেওয়া হয়েছে। এই সব তরুণেরা এতটাই হতাশার মধ্যে ডুবে রয়েছে যে, তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধে নেমে পড়ার আর কোনও অর্থই হয় না।  ধ্বংসস্তূপের নীচে শিকড় গজাচ্ছে তিক্ততা আর ঘৃণা। এতে করে শুরু হয়ে যায় হিংসার একটা নিরন্তর চক্র যাকে মুছে ফেলা অসম্ভব। যদি রাজনৈতিক আলাপ আলোচনার পরিসর না থাকে তাহলে নিহিলিজমই পল্লবিত হবে (নিহিলিজম হল এই বিশ্বাস যে জীবনের কোনও মানে বা উদ্দেশ্য থাকতে পারে না, এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নীতিনৈতিকতার কোনও মূল্যই নেই) এবং এখন পৃথিবীজুড়ে সেটাই দেখা যাচ্ছে।  সঙ্গে দেখা যাচ্ছে জঘন্য ধরনের সব সন্ত্রাসবাদী হানা। স্বল্পকালীন বোমা বর্ষণ নয়, এখন দরকার দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক সমাধান সূত্র।


অনুবাদ: সুচিক্কন দাস 


প্রকাশের তারিখ: ১৫-মে-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫০ টি নিবন্ধ
০৭-মে-২০২৬

২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬

১৯-মার্চ-২০২৬

১৩-মার্চ-২০২৬

০৪-মার্চ-২০২৬

২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬