Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

সুকান্ত

সুভাষ মুখোপাধ্যায়
সুকান্তর সাহিত্যিক গুণগুলোকে আন্দোলনের কাজে লাগানোর ব্যাপারে অন্নদারও যথেষ্ট হাত ছিল। সুকান্তর আগের যুগের লোক ব'লে আমি পার্টিতে এসেছিলাম কবিতা ছেড়ে দিয়ে ; আর সুকান্ত এসেছিল কবিতা নিয়ে। ফলে, কবিতাকে সে সহজেই রাজনীতির সঙ্গে মেলাতে পেরেছিল। তার ব্যক্তিত্বে কোনো দ্বিধা ছিল না।
sukanta

সুকান্তর যখন বালক বয়স, তখন থেকেই তার কবিতার সঙ্গে আমার পরিচয়আমি তখন স্কটিশ চার্চ কলেজে বি. . পড়ছি। 'পদাতিক' বেরিয়ে তখন পুরনো হয়ে গেছেরাজনীতিতে আপাদমস্তক ডুবে আছিক্লাশ পালিয়ে বিডন স্ট্রীটের চায়ের দোকানে আমাদের আড্ডাকলেজের বন্ধু মনোজ একদিন জোর 'রে আমার হাতে একটা কবিতার খাতা গছিয়ে দিল'ড়ে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি কবিতাগুলো সত্যিই তার চোদ্দ বছর বয়সের খুড়তুতো ভাইয়ের লেখাশুধু আমি কেন আমার অন্যান্য বন্ধুরা, এমন কি বুদ্ধদেব বসুও কবিতার সেই খাতা 'ড়ে অবাক না হয়ে পারেন নি। 

আমার সন্দেহভঞ্জন করবার জন্যেই বোধহয় মনোজ একদিন কিশোর সুকান্তকে সেই চায়ের দোকানে এনে হাজির করেছিলসুকান্তর চোখের দিকে তাকিয়ে তার কবিত্বশক্তি সম্বন্ধে সেদিন কেন আমি নিঃসংশয় হয়েছিলাম, সে বিষয়ে কেউ যদি আমাকে জেরা করে আমি তার সদুত্তর দিতে পারব না। 

সে সব কবিতা পরে 'পূর্বাভাস'- ছাপা হয়েছে! তাতে কী এমন ছিল যে, 'ড়ে সেদিন আমরা একেবারে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম? আজকের পাঠকেরা আমাদের সেদিনকার বিস্ময়ের কারণটা ধরতে পারবেন না। কারণ, বাংলা কবিতার ধারা তারপর অনেকখানি 'য়ে এসেছেকোনো কিশোরের পক্ষে বয়সে ছন্দে এমন আশ্চর্য দখল, শব্দের অমন লাগসই ব্যবহার সেদিন ছিল অভাবিতহালে সে জিনিস প্রায় অভ্যাসে দাড়িয়ে গেছে

জীবনের অভিজ্ঞতাকে ক্ষমতায় বেঁধে সুকান্ত যখন কবিতার বিদ্যুৎ শক্তিকে কলকারখানায় খেত খামারে ঘরে ঘরে সবে পৌঁছে দিতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই মৃত্যু তাকে কেড়ে নিয়ে গেলআরম্ভেই সমাপ্তির এই শোকে বাংলা সাহিত্য চিরদিন দীর্ঘশ্বাস ফেলবেসুকান্ত বেঁচে থাকতে তার অনুরাগী পাঠকদের মধ্যে আমার চেয়ে বড় সমালোচক আর কেউ ছিল কিনা সন্দেহএখন ভেবে খারাপ লাগেসামনাসামনি তাকে কখনও আমি বাহবা দিই নিতার লেখায় সামান্য ত্রুটিও আমি কখনও ক্ষমা করি নি। 

প্রসঙ্গ তুলেছি স্মৃতিচারণার জন্যে নয়পাঠকেরা পাছে বিচারে ভুল করেন, তার যুগ আর তার বয়স থেকে পাছে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে দেখবার চেষ্টা করেনসেইজন্যে গোড়াতেই আজকের পাঠকদের খানিকটা হুঁশিয়ার 'রে দিতে চাই

খুঁত ধরব জেনেও, নতুন কিছু লিখলেই সুকান্ত আমাকে একবার না শুনিয়ে ছাড়ত নাআমি তখন কবিতা ছেড়ে 'জনযুদ্ধ' নিয়ে ডুবে আছিঅফিসে বসে কথা বলবারও বেশি সময় পেতাম নাআমাদের অধিকাংশ কথাবার্তা হত সভায় কিংবা মিছিলে যাতায়াতের রাস্তায়। 'কী নিয়ে লিখব'— এটা কখনই আমাদের আলোচনার বিষয় হতো না। 'কেমন করে লিখব'- এই নিয়েই ছিল আমাদের যত মাথাব্যথা। 

কিশোর বাহিনীর আন্দোলনে সুকান্তকে টেনে এনেছিল তখনকার ছাত্রনেতা এবং আমাদের বন্ধু অন্নদাশঙ্কর ভট্টাচার্যরাজনীতিতে শুকনো ভাব তখন অনেকখানি কেটে গিয়ে নাচ গান নাটক আবৃত্তির ভেতর দিয়ে বেশ একটা রসকষ এসেছেকবিতাকে বাইরে দাড় করিয়ে রেখে আমাদের যেমন রাজনীতির আসরে ঢুকতে হয়েছিল, সুকান্তর বেলায় তা হয়নিসুকান্তর সাহিত্যিক গুণগুলোকে আন্দোলনের কাজে লাগানোর ব্যাপারে অন্নদারও যথেষ্ট হাত ছিলসুকান্তর আগের যুগের লোক 'লে আমি পার্টিতে এসেছিলাম কবিতা ছেড়ে দিয়ে; আর সুকান্ত এসেছিল কবিতা নিয়েফলে, কবিতাকে সে সহজেই রাজনীতির সঙ্গে মেলাতে পেরেছিলতার ব্যক্তিত্বে কোনো দ্বিধা ছিল না। 

কিন্তু তার মানে নয় যে, আঠারো থেকে একুশ বছর বয়সে সুকান্ত যেভাবে লিখেছিলবেঁচে থাকলে তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়সেও সেই একই ভাবে লিখে যেতসুকান্তকে আমি ছোট থেকে বড় হতে দেখেছি 'লেই জানি, এক জায়গায় থেকে যাওয়া সুকান্তর পক্ষে অসম্ভব ছিলপূর্বাভাসেআরঘুম নেইতে অনেক তফাততেমনি সুস্পষ্ট তফাতছাড়পত্রে' প্রথমদিকের আর শেষ দিকের লেখায়। 

তাছাড়া কবিতা ছেড়ে সুকান্ত পরের জীবনে উপন্যাসে চলে যেত কিনা তাই বা কে বলতে পারে? বেঁচে থাকলে কী হত তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার আজ হয়ত কোনো মানে নেই, কিন্তু কাজে হাত দিয়েই সুকান্তকে চলে যেতে হয়েছে— একথা ভুলে গেলে সুকান্তর প্রতি অবিচার করা হবে

ভাবতে অবাক লাগে, সুকান্ত বেঁচে থাকলে আজ তার একচল্লিশ বছর বয়স হতকেমন দেখতে হত সুকান্তকে? জীবনে কোন্ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে সে যেত? তার লেখার ধারা কোন্ পথে বাঁক নিত

অসুখে পড়বার অল্প কিছুদিন আগে একদিন ওয়েলিংটন স্কোয়ারের এক মিটিঙে যাবার পথে আমার এক সংশয়ের জবাবে সুকান্ত বলেছিল: আমার কবিতা পড়ে পার্টির কর্মীরা যদি খুশি হয় তাহলেই আমি খুশিকেননা এই দলবলই তো বাড়তে বাড়তে একদিন দেশের অধিকাংশ হবে সেদিনই তর্কে আমি তাকে হারাতে চেষ্টা করেছিলামআমাকে মানতেই হবে, একদিক থেকে তার কথাটা মিথ্যে নয়! গত কুড়ি বছর ধরে সুকান্তর বই বাংলাদেশের প্রায় ঘরে ঘরে স্থান পেয়েছেপূর্ব পাকিস্তানে তার একটা ছাপা বই থেকে শয়ে শয়ে হাতে লিখে নকল করে লোকে সযত্নে ঘরে রেখেছেতার পাঠককুল ক্রমান্বয়ে বেড়েছেসুকান্ত মুখে যাই বলুক, আসলে সে শুধু পার্টির কর্মীদের জন্যেই লেখেনিযে নতুন শক্তি সমাজে সেদিন মাথা তুলেছিল, সুকান্ত তার বুকে সাহস, চোখে অন্তর্দৃষ্টি আর কণ্ঠে ভাষা জুগিয়েছিল কথাও ঠিক নয়, কাউকে খুশি করার জন্যে সুকান্ত লিখেছিলতাগিদটা বাইরে থেকে আসেনি, এসেছিল তার নিজের ভেতর থেকেপাঠকের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আসলে নিজেকেই সে কবিতায় ঢেলে দিয়েছিল

এক ক্লিকেই ফলো করুন মার্কসবাদী পথের হোয়াটস্যাপ চ্যানেল 


প্রকাশের তারিখ: ০১-আগস্ট-২০২৫
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

কবে, কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল সেটা উল্লেখ থাকলে মনে হয় লেখাটি সম্পূর্ণতা পেত।
- সুদীপ্ত চক্রবর্তী, ০১-আগস্ট-২০২৫


Khub bhalo
- Dipak Gope, ০১-আগস্ট-২০২৫


Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সংস্কৃতি বিভাগে প্রকাশিত ৮৫ টি নিবন্ধ
১৯-মে-২০২৬

১৪-মে-২০২৬

০৯-মে-২০২৬

০৯-মে-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৭-জানুয়ারি-২০২৬

০১-জানুয়ারি-২০২৬

১৫-নভেম্বর-২০২৫

১১-নভেম্বর-২০২৫

০৪-নভেম্বর-২০২৫