Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

চ্যাট জিপিটি নাকি মানুষ, কে গাইবে জীবনের গান? 

প্রসূন ভট্টাচার্য
শুধু কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়াই নয়, অনিয়ন্ত্রিতভাবে চ্যাট জিপিটি’র ব্যবহার নিয়ে আরও অনেক আশঙ্কা আছে। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা, গবেষকরা চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করে তাদের হোমওয়ার্ক, গবেষণাপত্র, অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে শুরু করেছে। এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে শিক্ষার্থীর পড়াশোনা করে নিজে থেকে চিন্তাভাবনা করে উত্তর লেখার ক্ষমতা লোপ পাবে বলেই আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের ওপর মারাত্মক খারাপ প্রভাব পড়বে। শিশুদের যুক্তিবোধ কমে যাবে। তারা নিজে থেকে কিছু ভাবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। বিশ্বের বহু দেশে শিক্ষাবিদরা শিক্ষার্থীদের জন্য চ্যাট জিপিটি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছেন। ফ্রান্সের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে চ্যাট জিপিটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। আমেরিকাতেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে।
man vs chatgpt

হাতে হাতুড়ি নিয়ে মেশিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছিলেন জন হেনরি। হৃদপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল তাঁর। পৃথিবীর মানুষকে কি এবার মেধাশ্রম নিয়েও যন্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে? যন্ত্রের কাছে খোয়াতে হবে মানুষের জায়গা? 

কল্পবিজ্ঞানের গল্পকে বাস্তবে হাজির করার আশ্বাস নিয়ে দুনিয়া জুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছে চ্যাট জিপিটি। কম কথায় বলতে গেলে এটি একটি চ্যাট-বট বা সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন। এর কাছে, সমস্ত প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। বলা হচ্ছে, সে মানুষের মতোই ভাবতে পারে, জটিল পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের উপায় বলে দিতে পারে, যাবতীয় তথ্য খুঁজে হাজির করতে পারে আবার বিশ্লেষণও করতে পারে, মানুষের মতো ভাবনাচিন্তা করে মেধা ও জ্ঞাননির্ভর বিস্তর কাজ চোখের পলকে করে দিতে পারে। অর্থাৎ এটি ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা চালিত। এর পুরো নাম Generative Pretrained Transformer। বলা যেতে পারে, একটি আধুনিক নিউরাল নেটওয়ার্কভিত্তিক মেশিন লার্নিং মডেল এটি। ২০১৫ সালে এলন মাস্ক এবং স্যাম অল্টম্যান’-এর ওপেন এআই সংস্থা এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু পরে এলন মাস্ক এই কোম্পানি থেকে বেরিয়ে যান। আমেরিকার ওপেন এআই নামের প্রযুক্তি ল্যাবরেটারি ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর চ্যাট জিপিটিকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। শুরু থেকেই তোলপাড় করে দিয়েছে নতুন এই প্রযুক্তি। সংস্থার সিইও স্যাম অল্টম্যানের বক্তব্য, চ্যাট জিপিটি উন্মুক্ত করার পর এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ লাখ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে গেছে। এখন সেটা ১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।  

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই সমস্ত ডিজিটাল পরিষেবায় এই প্রযুক্তি যুক্ত হয়ে যাবে। তার ফলে কী হবে? ধরা যাক আমাদের কোনও বিষয়ে কোনও তথ্য প্রয়োজন হল। এতদিন আমরা তার জন্য গুগল সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্য নিতাম। কিন্তু এখন আমাদের মোবাইল বা কম্পিউটারে চ্যাট জিপিটি থাকলে চ্যাট-বটের কাছে জানতে চাইব সেই তথ্য এবং সে লিখিত চ্যাটের মাধ্যমে আমাদের সামনে সেই সংক্রান্ত তথ্য হাজির করবে। শুধু লেখা নয়, চ্যাট জিপিটি’কে যা নির্দেশ বা প্রম্পট করা হবে সেই অনুযায়ী সে আমাদের সামনে তথ্য হাজির করবে। বিষয়বস্তু নির্দেশাকারে দিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে গল্প উপন্যাস প্রবন্ধ কবিতা লিখে দেবে, এমনকি ছবিও এঁকে দেবে, কিংবা কৃত্রিম ভিডিও অথবা স্থিরচিত্র তৈরি করে দেবে, এমনকি মিউজিকও কম্পোজ করে দেবে, গান শুনিয়ে দেবে। শুধুমাত্র চ্যাট জিপিটি’কে নির্দেশ দেওয়ার অপেক্ষা।

চ্যাট জিপিটি একদম নতুন প্রযুক্তি নয়, ইতিমধ্যেই গুগলের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রযুক্তি বা অ্যালেক্সার মাধ্যমে এরকম ভবিষ্যতের আভাস কিছুটা আমরা পেয়েছিলাম। কিন্তু চ্যাট জিপিটি তার থেকে বহুগুণ বেশি শক্তিশালী এবং কর্মক্ষম ও সুবিধাদায়ক প্রযুক্তি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনের বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত হয় জিপিটি’র পূর্ববর্তী ভার্সনের লেখা এক প্রবন্ধ, যার শিরোনাম ‘এই আর্টিকলটি লিখেছে এক রোবট। মানুষ, তুমি কি ভয় পাচ্ছ?’ এখন চ্যাট জিপিটি আরও নিখুঁত, তার ডেটাবেস এত চওড়া হচ্ছে যে ভুল বের করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং ইত্যাদি প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে চ্যাট জিপিটি এখন নাকি মানুষের মতো আচরণ করছে। আগামী দিনে এই প্রযুক্তির ঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে, যা আমাদের পরিচিত চারপাশকে অনেকটাই বদলে দেবে। কিন্তু সেই ঝড়ের প্রকৃতি কী হবে? সমাজের পক্ষে মঙ্গলদায়ক হবে নাকি সব লণ্ডভণ্ড করে দেবে সে? 

এখানেই মানবসভ্যতা আশা এবং আশঙ্কার মাঝে দুলছে। সমাজের অর্থনৈতিক শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরে নির্ভর করছে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শেষপর্যন্ত কী রূপ নেবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কি কেবলই মানুষের পেশা কেড়ে মুখের গ্রাস কেড়ে, মানুষকে মেধাবুদ্ধিহীন পদার্থে পরিণত করবে? নাকি এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে আমাদের সামনে?

কায়িক শ্রমের কাজগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে আরেক ধরনের যন্ত্র, মেধা শ্রমের কাজগুলির দায়িত্বও কিন্তু ক্রমশই বেশি বেশি করে নিয়ে নিচ্ছে আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধা। এতে মানব সভ্যতার উন্নতই হওয়া স্বাভাবিক, মানুষের কাজ যদি যন্ত্রে করে দেয় তাহলে মানুষ তো আর বসে থাকবে না সে আরও উন্নত কাজে মস্তিষ্কের ব্যবহার করবে এবং আরও উন্নত হয়ে উঠবে। এমন সোজা পাটিগণিতে কিন্তু সমাজটা এগোচ্ছে না। বরং পুঁজিবাদী সমাজ যেভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে তার অস্বাভাবিকতা ও মানববিরোধী চরিত্র ততোই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চ্যাট জিপিটি বাজারে আসা মাত্র বহু কর্পোরেট সংস্থা তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে বহু অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক আশঙ্কা প্রকাশ করতে শুরু করে দিয়েছেন, ‘হোয়াইট কলার জব’ বা মেধাভিত্তিকে পেশা এবার ব্যাপকভাবে কেড়ে নিতে চলেছে চ্যাট জিপিটি। কোনো কোম্পানি কয়েকশো কর্মী রেখে যে কাজ করতে তা দু'একজনকে নিয়ে সেরে ফেলতে পারবে চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করে। এমনিতেই বিশ্বব্যাপী মন্দা, তার ওপরে আবার নেমে আসতে চলেছে ছাঁটাই।

চ্যাট জিপিটির অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা টেক জায়েন্ট গুগলকে প্রতিযোগিতায় ফেলে দিয়েছে। তারা এখন চ্যাট জিপিটির বিকল্প ‘গুগল বার্ড’ নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে।  গুগল এবং অ্যালফাবেটের সিইও সুন্দর পিচাই বলছেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে সমস্ত কোম্পানির সমস্ত প্রোডাক্টে এই প্রযুক্তি প্রভাব পড়তে চলেছে।’ 

শুধু কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়াই নয়, অনিয়ন্ত্রিতভাবে চ্যাট জিপিটি’র ব্যবহার নিয়ে আরও অনেক আশঙ্কা আছে। শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা, গবেষকরা চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করে তাদের হোমওয়ার্ক, গবেষণাপত্র, অ্যাসাইনমেন্ট লিখতে শুরু করেছে। এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে শিক্ষার্থীর পড়াশোনা করে নিজে থেকে চিন্তাভাবনা করে উত্তর লেখার ক্ষমতা লোপ পাবে বলেই আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের ওপর মারাত্মক খারাপ প্রভাব পড়বে। শিশুদের যুক্তিবোধ কমে যাবে। তারা নিজে থেকে কিছু ভাবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। বিশ্বের বহু দেশে শিক্ষাবিদরা শিক্ষার্থীদের জন্য চ্যাট জিপিটি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছেন। ফ্রান্সের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে চ্যাট জিপিটি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। আমেরিকাতেও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই রকমের ব্যবস্থা নিয়েছে। 

আশঙ্কা আরও আছে। সম্প্রতি ব্লুমবার্গে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্পোরেট সেক্টরে চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করার আগে চিন্তা করা উচিত। এর ব্যবহারে কোম্পানিগুলির গ্রাহকের গোপনীয় তথ্য ও ‘কর্পোরেট সিক্রেট’ চুরি করতে পারে। এমনকি কোম্পানিগুলোর ওপর সাইবার হামলা হতে পারে। বলা বাহুল্য, নাগরিকদের গোপনীয় যাবতীয় তথ্য এভাবে চ্যাট জিপিটি ব্যবহারে উন্মুক্ত হয়ে গেলে তাঁদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স’-এর ডেটা বেস উন্নত ও চওড়া করতে ক্রমাগত ব্যবহারকারীদের থেকে তথ্য সংগ্রহ চলছে। এই তথ্যের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথায়? ইতিমধ্যেই ইতালি সরকার নিজেদের দেশে চ্যাট জিপিটি’র ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে এই তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত যথেষ্ট আশ্বাসের অভাবে।

আশঙ্কা আছে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও। নিউইয়র্ক টাইমসে তথ্য বিশেষজ্ঞ নাথান ই সান্ডার্স এই আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, মানুষ লবিস্টরা একরকমভাবে কাজ করেন। কিন্তু চ্যাট জিপিটি যেভাবে আইন ও নীতি প্রনয়নকারী সংস্থাগুলিকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করতে পারে তা গণতন্ত্রের ওপরে মারাত্মক হতে পারে। এছাড়াও ভুল বা ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও আছে। যেমন ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা অজস্র ভুল তথ্য রয়েছে। চ্যাট জিপিটি মূহুর্তের মধ্যে যে তথ্য রাজি আমাদের সামনে হাজির করছে তা সেগুলির ভিত্তিতেই। তাহলে? 

কৃত্রিম প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ টবি ওয়ালশ গবেষণা থামানোর পক্ষে নন। কিন্তু তিনিও বলেছেন, ‘এই প্রযুক্তি নিয়ে যত বেশি সম্ভব গবেষণা করা প্রয়োজন। কিন্তু সাধারণ মানুষের হাতে নতুন প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার আগে সরকারি নিয়ন্ত্রণবিধি থাকা দরকার।’ নইলে কী হতে পারে? তিনি জানিয়েছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়াকে সম্পূর্ণ ভাবে বুঝে ওঠার আগেই তাকে সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তার ফল হয়েছে ভয়াবহ। ভুয়ো খবর, ঘৃণার প্রচার বেড়ে গিয়েছে ব্যাপক হারে। একইসঙ্গে তথ্যের গোপনীয়তা, গণতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার  প্রভাব পড়েছে সমাজে। তাই চ্যাট-বটের ক্ষেত্রে একই ভুল করা ঠিক নয়। কিন্তু বিশ্বজুড়ে সেরকম সতর্কতা মূলক লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে কই!’

মূহূর্তের মধ্যে তথ্য সম্বলিত করে চ্যাট জিপিটি বাজার মাৎ করতে দিতে পারে, কিন্তু মানুষের মতো সৃজনশীলতা কি আদৌ তার আছে? ইতিমধ্যেই তথ্য ভাণ্ডারে আপলোডেড তথ্যের বাইরে নতুন করে তথ্য উদ্ভাবনের ক্ষমতা কি তার আছে? এসব নানা প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি চ্যাট জিপিটি’র মেধাকে মানুষের মস্তিষ্কের মেধার সঙ্গে যে তুলনা করা হচ্ছে তাকে পুরোপুরি ভুয়ো বলে উড়িয়েও দিচ্ছেন অনেকে। নোয়াম চমস্কি যেমন সোজাসুজিই এই কথা বলছেন। তাঁর মতো বহু বিশেষজ্ঞের মতে, আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বাস্তবে কাজ করছে বিপুল পরিমান ডেটা বা পরিসংখ্যান নিয়ে, আমাদের যাবতীয় প্রশ্নের মুখে নির্দিষ্ট প্যাটার্ন খুঁজে তার থেকেই সম্ভাব্যকে সামনে এনে হাজির করছে তারা। দ্রুততায় এবং বিপুল পরিমানে ডেটা বা পরিসংখ্যান আয়ত্ত্ব করলেই যন্ত্রকে মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। মানুষের মস্তিষ্ক যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতেও কাজ করে। তাই অসম্ভাব্যকেও মানুষ খুঁজে বের করতে পারে। আপেল গাছ থেকে মাটিতে পড়বে, সমস্ত বস্তুর মাটিতে পতনের পরিসংখ্যান বিচার করে কৃত্রিম মেধা একথা বলে দিতেই পারে। কিন্তু কেবল মনুষ্য মেধাই তার কারণ অনুসন্ধান করে ব্যাখ্যা করতে পারে। কৃত্রিম মেধা বিপুল তথ্যরাজি থেকে সম্ভাব্যকে বলে দিতে পারে। মনুষ্য মেধা কারণ ও যুক্তির ভিত্তিতে, উচিত অনুচিত বিবেচনার ভিত্তিতে সম্ভাব্যকে চিহ্নিত করতে পারে, তাতে বহুবার ভুল হতে পারে এবং তবু সেই ভুলগুলিকে সংশোধন করতে করতে মানুষ সঠিকে পৌঁছতে পারে। মনুষ্য মেধার চিন্তার পদ্ধতি ও কৃত্রিম মেধার চিন্তার পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।

এমন হলে, বোঝাই যাচ্ছে চ্যাট জিপিটি নিয়ে যতোই সৃজনশীলতার প্রচার হোক, ইতিমধ্যেই মনুষ্যসৃষ্ট চলতি ভাবনার বাইরে কিছু সৃষ্টির ক্ষমতা তার নেই। শিল্পী যখন ‘সুন্দর’কে সৃষ্টি করেন তখন সেটা চলতি পরিসংখ্যানের অ্যালগোরিদমে সমর্থিত হবে কিনা ভাবেন না। কিংবা দুনিয়া জুড়ে সমতায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক ও সমাজকর্মীরা যখন সাম্যবাদী লড়াইতে মগ্ন থাকেন তখন সেই চেষ্টা অসাম্যের ব্যবস্থাসৃষ্ট পরিসংখ্যান সিদ্ধ হবে কিনা সেই ভাবনায় দোলাচলে ভোগেন না। কাজেই যন্ত্র বহু কাজে খুবই সহায়ক হতে পারে, কিন্তু নতুনের জয়গান সম্ভবত মানুষকেই গাইতে হবে, কোনো যান্ত্রিক কন্ঠে তা উচ্চারিত হতে পারে না।


প্রকাশের তারিখ: ০৬-মে-২০২৩
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
সমসাময়িক বিভাগে প্রকাশিত ২৫০ টি নিবন্ধ
০৭-মে-২০২৬

২৯-মার্চ-২০২৬

২২-মার্চ-২০২৬

১৯-মার্চ-২০২৬

১৩-মার্চ-২০২৬

০৪-মার্চ-২০২৬

২৪-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২১-ফেব্রুয়ারি-২০২৬

২০-ফেব্রুয়ারি-২০২৬