Latest Edition

সাম্প্রতিক সংখ্যা

Latest Edition

মার্কসবাদী পথ প্রকাশনা
Latest Edition


Donate Now আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay

বছরের নজর

মেদিয়া বেঞ্জামিন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালে দেশজুড়ে সমলিঙ্গ বিবাহ আইনসিদ্ধ করেছিল। কিন্তু এই কোর্টই আবার চলতি বছরের জুনে ফেডারেল স্তরে গর্ভপাতের অধিকারকে খারিজ করে দেয়। ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে, হয়ত সমলিঙ্গ বিবাহ ফেডারাল স্তরে যে রক্ষাকবচ উপভোগ করে তা এবার ভেস্তে যেতে পারে। দ্য রেসপেক্ট ফর ম্যারেজ অ্যাক্ট পাস করা হয়েছিল সমলিঙ্গ বিবাহের জন্য এই রক্ষাকবচের কথা মাথায় রেখেই। যে কোনও দুজন ব্যক্তির বিবাহ, যে রাজ্যে ওই বিবাহ হয়েছে সেখানে এধরনের বিয়ে যদি আইনত বৈধ হয়, তাহলে সেই দুই ব্যক্তির বিবাহকে ফেডারেল স্তরেও স্বীকৃতির গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে দ্য রেসপেক্ট ফর ম্যারেজ অ্যাক্টে।
bochorer nojor

ইউক্রেন, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও অন্যত্র যুদ্ধ জারি রয়েছে। গর্ভপাতের অধিকার, যা ছিল সাংবিধানিক অধিকার, তা ৬-৩ গরিষ্ঠতায় খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। জলবায়ু সঙ্কটের নিরসনে কাজে লাগানোর বদলে সামরিকতাবাদ আমাদের সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে। ফলে চরম মূল্য দিয়ে যে সব প্রগতি আমরা অর্জন করেছিলাম তাকে মনে রাখাটাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আরও একটা কঠিন বছর আমরা পিছনে ফেলে এলাম। এখন একটু থেমে পিছনের দিকে তাকিয়ে নিজেদেরই মনে করিয়ে দেওয়া দরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা, যা ঘটেছে ২০২২ সালে। সেই সব পরিবর্তনই আমাদের উৎসাহিত করবে আগামী বছরে আরও অনেক ইতিবাচক কাজ করতে। যেসব সাফল্য ফেলে আসা বছরে পাওয়া গেছে তার কিছুটা শুধুমাত্র আংশিক অর্জন। তবে সেগুলিই হল সেই ভিত্তি যার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা একটা ন্যায়ের পৃথিবী, একটা শান্তিপূর্ণ ও টিকে থাকার উপযোগী পৃথিবীর অভিমুখে এগিয়ে যেতে পারি।

১। আরও শক্তিশালী লাতিন আমেরিকার ‘গোলাপি স্রোত’

২০২১ সালে আমরা দেখেছি লাতিন আমেরিকায় প্রগতিশীল শক্তির ঢেউয়ের মতো একটার পর একটা বিজয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবছর দেখা গেল নতুন দুটো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী জয়। কলম্বিয়ায় ভোটে জিতে ক্ষমতায় গুস্তাভ পেট্রো। ব্রাজিলে নির্বাচনে জয়ী লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভা। আমেরিকাজের জুন শীর্ষ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি বাইডেন বাদ দিয়েছিলেন কিউবা, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলাকে। বেশ কয়েকজন লাতিন আমেরিকান নেতা এই সম্মেলনে যোগ দিতেই অস্বীকার করেন। আর বাকিরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধাক্কা মেরে একথা শিখিয়ে দিতে যে, এই অঞ্চলের দেশগুলির সার্বভৌমত্বকে তাদের সম্মান করে চলতে হবে। (‌কোডপিঙ্ক-এর বসন্তকালীন ফোরাম ‘ইন সার্চ অফ এ নিউ ইউএস পলিসি ফর এ নিউ লাতিন আমেরিকা’‌-র দিকে নজর রাখুন)‌। 

২। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক আন্দোলেন আগুনের পরশমণি

২০২২ সালে আমরা দেখলাম অ্যামাজনের শ্রমিকদের এবং ক্রিস স্মলস-এর চমৎকার সাংগঠনিক দক্ষতা। স্টারবাকস-এর প্রায় ৭০০০ কর্মী এখন ইউনিয়নে সংগঠিত। সংস্থার প্রায় ৩০০ স্টোর এখন ইউনিয়নভুক্ত। ২০২২ এর প্রথম ৮ মাসে ন্যাশনাল লেবার রিলেশনস বোর্ডের কাছে ইউনিয়নের নির্বাচন করানোর জন্য ৫৮ শতাংশ বেশি আবদেন জমা পড়েছে। ফের ছন্দে ফিরছে শ্রমজীবীদের শিবির এবং লড়ছেও দারুন।

৩। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর হামলা অব্যাহত। তবু জনগণ লড়াই করে ছিনিয়ে এনেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিজয় 

সারা দেশের বিভিন্ন জেলা জুড়ে প্রগতিশীল প্রার্থীদের ভোটে জয়ী করেছেন ভোটদাতারা। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সাস, ইলিনয়, মিশিগান, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, পেনসিলভ্যানিয়া ও ভারমন্ট। এবং সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতেই রয়েছে। এবার ভোটের লাইনে রেকর্ড সংখ্যায় দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের—  মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতি ৮ জন ভোটারের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ৩০ এর নীচে। যেসব রাজ্যে ব্যালটে ভোটের পরিণাম নির্ধারিত হয়েছে সেসব রাজ্যে জযী হয়েছে গর্ভপাতের অধিকার (ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, ভারমন্ট)। ‘লাল রাজ্য’ কেন্টাকিতে প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব পাস করানোর চেষ্টা হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনে বলা হয়েছিল, সংবিধান ঘোষণা করুক যে গর্ভপাতের জন্য কোনও সাংবিধানিক অধিকার নেই।  সেই সংশোধনের প্রয়াসকে খারিজ করে দিয়েছেন ভোটদাতারা। আরেকটি ইতিবাচক বিষয়:  মেক আমেরিকা গ্রেট আগেইন (এমএজিএ)-এর সমর্থকেরা যারা মনে করে ২০২০ নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে, এবং যারা বিভিন্ন রাজ্যে দলের নির্বাচনী পারফরমেন্সের নজরদারির দায়িত্বে ছিল তারা সকলেই পরাজিত হয়েছে।

৪। শান্তির পারাবত উড়ল ইথিওপিয়ায়

টানা দুবছরের বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধে মৃত কয়েক হাজার। লক্ষাধিক মানুষ গৃহচ্যুত। তাদের দিন কাটছে অনাহারে। এসব পেরিয়ে এসে ইথিওপিয়ার ফেডারাল সরকার ও টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (‌টিপিএলএফ)‌ ২ নভেম্বর ২০২২-এ সই করল শান্তিচুক্তিতে। আফ্রিকান ইউনিয়ন যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করেছিল, সেখান থেকেই উঠে এল এই অবাক করে দেওয়ার মতো চুক্তি। লড়াই এখন থেমেছে। দুপক্ষই শপথ নিয়েছে এই শান্তিচুক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

৫। বিশ্বজুড়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সমর্থন বেড়েছে, এর জেরে শেষ পর্যন্ত নৈতিকভাবে অ্যাসাঞ্জের সমর্থনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে মূলস্রোতী সংবাদমাধ্যম

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, লে মঁদে, এল পাইস এবং ডার স্পিগেলের মতো সংবাদমাধ্যমগুলি ১২ বছর আগে উইকিলিকস নথি প্রকাশ করেছিল। শেষ পর্যন্ত এরা রাষ্ট্রপতি বাইডেনের কাছে আর্জি জানিয়েছে অ্যাসাঞ্জকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজও (অ্যাসাঞ্জ অস্ট্রেলিয় নাগরিক) শেষ পর্যন্ত মার্কিন সরকারের কাছে এই মর্মে আর্জি জানিয়েছেন যে, তারা যেন অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তারির চেষ্টা বন্ধ করে। অ্যাসাঞ্জের পক্ষে আরও জোরালো সমর্থন দেখা গেছে লাতিন আমেরিকায়। কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেট্রো, মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতি লোপেজ ওব্রাডর, নিকারাগুয়ার রাষ্ট্রপতি ড্যানিয়েল ওর্তেগা, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত লুলা ডা সিলভাও অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

৬। মহাদেশের মূলবাসীদের ও গ্লোবাল সাউথ-এর দাবি শেষ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া গেছে বৃহত্তম জলবায়ু সম্মেলন কপ২৭-এর মঞ্চে

মহাদেশগুলির মূলবাসী-আদিবাসী এবং গ্লোবাল সাউথ-এর সংগঠকদের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াসকে ধন্যবাদ। এবার সমাজের প্রান্তবাসী গোষ্ঠীগুলি শুধুমাত্র কপ২৭-এ হাজিরই হয়নি, শেষ পর্যন্ত এই সম্মেলন তাদের কথা শুনতেও বাধ্য হয়েছে। এবং সম্মেলন থেকে ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ তহবিল গড়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাবে যেসব দেশের ক্ষতি হয়েছে তারা যাতে সেই ক্ষতি সামাল দিতে পারে সেই কাজেই সহায়তা করা হবে এই তহবিল থেকে। গ্লোবাল সাউথের নাগরিক সমাজ ও সম্মিলিত কর্মোদ্যোগীদের জন্য এই তহবিল গঠন একটা ঐতিহাসিক সাফল্য। তাঁরা এই প্রয়াস চালিয়ে আসছেন গত প্রায় তিন দশক ধরে। এখন ধনী দেশগুলিকে চাপ দেওয়া যাবে যাতে তারা এই তহবিলে অর্থের যোগান দেয় এবং খুব বেশি দেরির কারণে বিশ্বজুড়ে বিপর্যয় নেমে আসার আগেই পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের রূপান্তরের কাজটায় যেন আমরা মনোনিবেশ করতে পারি।

৭।  প্রায় ২০০টি দেশ (‌মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভ্যাটিকান বাদে)‌ অঙ্গীকার করেছে বিশ্বজুড়ে প্রকৃতির যে ক্ষতি হচ্ছে তা আটকানো হবে

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ সম্মেলন, কানাডায় কপ ১৫ জীববৈচিত্র শীর্ষ সম্মেলন পৌঁছেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে। এই চুক্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূমি ও সমুদ্রকে বিশ্বে এখনও টিকে থাকা বন্য গাছপালা এবং বন্য প্রাণের আশ্রয়ের জন্য রক্ষা করা হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘‌৩০ বাই ৩০’‌। বিশ্বে জীববৈচিত্রের যে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে সেই প্রক্রিয়াকে আটকে দেওয়ার জন্য এই চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন প্রায় ১০ লক্ষ প্রজাতি চিরকালের জন্য নিশ্চিহ্ন হওয়ার ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ৩০ বাই ৩০-এর লক্ষ্যকে বাস্তবে কার্যকর করতে হলে ধারাবাহিক ভাবে তৃণমূল স্তরে চাপ সৃষ্টি করা দরকার এবং ধনী দেশগুলির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের সরবরাহ দরকার।

৮। পাশ হল রেসপেক্ট ফর ম্যারেজ অ্যাক্ট

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালে দেশজুড়ে সমলিঙ্গ বিবাহ আইনসিদ্ধ করেছিল। কিন্তু এই কোর্টই আবার চলতি বছরের জুনে ফেডারেল স্তরে গর্ভপাতের অধিকারকে খারিজ করে দেয়। ফলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে, হয়ত সমলিঙ্গ বিবাহ ফেডারাল স্তরে যে রক্ষাকবচ উপভোগ করে তা এবার ভেস্তে যেতে পারে। দ্য রেসপেক্ট ফর ম্যারেজ অ্যাক্ট পাস করা হয়েছিল সমলিঙ্গ বিবাহের জন্য এই রক্ষাকবচের কথা মাথায় রেখেই। যে কোনও দুজন ব্যক্তির বিবাহ, যে রাজ্যে ওই বিবাহ হয়েছে সেখানে এধরনের বিয়ে যদি আইনত বৈধ হয়, তাহলে সেই দুই ব্যক্তির বিবাহকে ফেডারেল স্তরেও স্বীকৃতির গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে দ্য রেসপেক্ট ফর ম্যারেজ অ্যাক্টে। এই আইনে বলা হয়েছে, যদি সারা দেশজুড়ে বিবাহের সমতার নীতি বদলেও দেয় সুপ্রিম কোর্ট, তাহলেও সমলিঙ্গ বিবাহের লাইসেন্স ইস্যু করার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে বাধ্য করা যাবে না। বরং, এই আইনের আওতায় সব সমলিঙ্গে বিবাহিত দম্পতি সমানাধিকার পাবেন, তা সেই বিবাহ তাঁরা যে রাজ্যেই করে থাকুন না কেন। এই আইন জাতিগত বিবাহকেও নিরাপত্তা দেয়।

৯। বিশ্বকাপ নজর ঘোরাল প্যালেস্তাইনের দিকে

ফুটবল বিশ্বকাপ ছিল একটা চিত্তচমৎকারী ঘটনা যা সৃষ্টি করেছিল বিশ্ব সংহতি ও আনন্দ। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতায় উচ্ছ্বসিত গোটা লাতিন আমেরিকা। কিন্তু বিশেষ করে মুসলিম ও আরব দেশের ফুটবল অনুরাগীরা নজর রেখেছিলেন বিশ্বের আরেকটি অঞ্চলে। সেটা হল প্যালেস্তাইন। খেলার মাঠে, স্টেডিয়ামের শস্তার টিকিটের গ্যালারিতে, রাস্তায়, সর্বত্র প্যালেস্তাইনের পতাকা নিয়ে শ্লোগান দিতে দেখা গেছে লোকেদের। ভাইরাল হয়েছে ইজরায়েলি সাংবাদিকদের ভাগিয়ে দেওয়ার ভিডিও। অন্তত বিশ্বকাপের একমাস জুড়ে ‘মুক্ত প্যালেস্তাইন’-এর শ্লোগান ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বজুড়ে।

১০। পৃথিবী এখন বহুমেরুকেন্দ্রিক

বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রজেক্ট চীনের বিপুল উচ্চাকাঙ্খী একটি প্রকল্প। এই প্রকল্প কার্যকর হচ্ছে ৮০টি দেশজুড়ে। অন্যদিকে গোটা পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন দেশের ওপর ভৌগোলিক সীমা-বহির্ভূত নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট নিজেদের অর্থনৈতিক ক্ষমতার অপচয় ঘটিয়ে চলেছে। এর জেরে ডলারের বিকল্প মুদ্রা চালু করার চাপ এখন তুঙ্গে। এক ডজনেরও বেশি দেশ ব্রিকস-এ (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী অর্থনীতিগুলির জোট) যোগ দিতে চেয়েছে। ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ। এবং তাদের জিডিপি বিশ্বের মোট জিডিপির ২৫ শতাংশ। ব্রিকস-এর সদস্যরা ইতিমধ্যেই তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চালাচ্ছে স্থানীয় মুদ্রার সাহায্যে। লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকায় নতুন করে কিংবা পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে মাথা তুলেছে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন। বিশ্বের বেশির ভাগ অঞ্চলেই বহুমেরুবিশিষ্ট বিশ্ব ইতিমধ্যেই একটা বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। এবং এটা সবদেশের জনগণের পক্ষেই ভাল। এমনকী আমেরিকানদের জন্যও ভাল। এটা ভাল সেই পৃথিবীর চেয়ে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ, সামরিকতাবাদ এবং নিপীড়ণমূলক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চালিয়েই যায় যাতে ঠাণ্ডা যুদ্ধ মিটে যাওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য যে একমেরু বিশ্ব তৈরি হয়েছিল তাকে আমাদের নতুন শতকেও দীর্ঘস্থায়ী করা যায়।

সম্ভবত আমরা যে এখনও বেঁচে রয়েছি ২০২২ সালে সেটাই হবে সবচেয়ে ধন্যবাদ দেওয়ার মতো বিষয়। কারণ ইউক্রেনকে ঘিরে সংঘাত আমেরিকা ও রাশিয়াকে পরমাণু যুদ্ধের খাদের ধারে এনে ফেলেছে। ইউক্রেনের নাগরিকেরা, ইউক্রেন ও রাশিয়ার সেনারা, এবং গোটা পৃথিবীর মানুষ এই নির্মম সংঘাতের ফল ভোগ করছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ভাষায় বললে এ হল বিশ্বকে পারমাণবিক প্রলয়ের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া। তবে জীবন যদি টিকে থাকে তাহলে আশাও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। যদি আমরা ২০২৩ সালের শেষে আরও একটা ছুটির মরশুম উপভোগ করতে চাই তাহলে ভাল হবে এমন একটা পথ খুঁজে বের রা যাতে সবপক্ষকে আলোচনার টেবিলে এনে ফেলা যায়। ২০২৩ সালে শান্তি নামুক পৃথিবীতে।



সূত্র : পিপলস ডেসপ্যাচ

ভাষান্তর: সুচিক্কণ দাস


প্রকাশের তারিখ: ৩১-ডিসেম্বর-২০২২
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:


আপনার মতামত

এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।



অন্যান্য মতামত:

Donate Now
আপনি এখন ব্যাংক UPI / ফোনপে / গুগল পের মাধ্যমে মার্কসবাদী পথকে ডোনেশন দিতে পারেন।
You can now donate to Marxbadi Path through UPI of various apps or payment apps like PhonePay/GooglePay
নানা প্রসঙ্গ বিভাগে প্রকাশিত ১০১ টি নিবন্ধ
১০-জানুয়ারি-২০২৬

২১-ডিসেম্বর-২০২৫

২০-ডিসেম্বর-২০২৫

১৩-ডিসেম্বর-২০২৫

২৫-নভেম্বর-২০২৫

২০-অক্টোবর-২০২৫

১৬-অক্টোবর-২০২৫

০৮-সেপ্টেম্বর-২০২৫

২৩-ফেব্রুয়ারি-২০২৫

০৫-ডিসেম্বর-২০২৪