শ্রমজীবী মেয়েরা:  দাবি প্রচার বাস্তবতা

ওয়েব ডেস্ক মার্কসবাদী পথ
প্রায় এক কোটি কর্মী যারা সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা তাদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে স্বীকৃতিই দেওয়া হয়নি। কারণ সেই স্বীকৃতি দিলে শ্রম আইনের আওতায় সুযোগ-সুবিধাও দিতে হবে! এর মধ্যে বেশির ভাগই কাজ করেন আইসিডিএস (অঙ্গনওয়াড়ি), এম এইচ এম (আশা) এবং মিড ডে মিল ইত্যাদির মত বিভিন্ন প্রকল্পে। এদের পারিশ্রমিক (বেতন নয়, রেমুনারেশন) ২০১৮ সাল থেকে সরকার আর বাড়ায়নি!

এক ক্লিকে ফলো করুন মার্কসবাদী পথের হোয়াটসঅ্যাপWhatsapp logo Vectors & Illustrations for Free Download | Freepikচ্যানেল

ভোটের আগে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চটকদারি বিজ্ঞাপনগুলির বেশিরভাগের বিষয় মেয়েদের ক্ষমতায়ন। বিভিন্ন প্রচার সর্বস্ব প্রকল্পের গালভারি নামকরণ! প্রচারে মেয়েদের সব ঝকঝকে মুখচোখ আর সরকারের প্রতি নতমস্তকে ধন্যবাদ জানান দেওয়া!

বিজ্ঞাপনের আড়ালে বাস্তবটা কেমন? এর উত্তর খুঁজেছি আমরা।

ভারতবর্ষ বর্তমানে প্রো-কর্পোরেট এবং সাম্প্রদায়িক নিষ্পেষণের চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে, যাকে এক কথায় আমরা মোদী-জমানা বলছি। এই মোদী জমানার অনেক দিকের মধ্যে একটি হলঃ এই দেশের শ্রমজীবী মেয়েদের অবস্থার ক্রমশ ‘অটল’-অধঃপতন! শ্রমশক্তিতে মেয়েদের অংশগ্রহণে ভারত জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসনে নয়, একেবারে শেষের সারিতে, ৩৪% মাত্র...।

বর্ধিত দ্রব্যমূল্য: কাজ এবং বেতনের অনিশ্চয়তা

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গ্রামীণ ক্ষেত্রে স্বনির্ভর মেয়েদের হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭০% পর্যন্ত, এদের মধ্যে অধিকাংশই রয়েছেন কৃষিক্ষেত্রে। প্রায় ৪০% বেতনহীন-শ্রম সহায়ক হিসেবে কাজ করেন। মাত্র ১০% মেয়েরা নিয়মিত বেতনভুক কর্মী। ৫৮% গ্রামীণ এবং ৫১% শহরের মেয়েরা সবেতন কর্মচারী। এরা সাধারণত  গার্হস্থ্য শ্রমের সহায়ক কর্মী, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করেন। বেতন থাকলেও তারা সামাজিক এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পান না। এ থেকে বোঝা যায় যে, কাজ থেকে ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কায় এবং বেতন না পেলে বা কাজ না থাকলে জীবনযাপনের মানের ওঠাপড়ার কতখানি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে এই  সব কর্মীদের দিন কাটাতে হয়!

এর সঙ্গে আছে পেট্রোলের, ডিজেলের,  রান্নার গ্যাসের উত্তরোত্তর দাম বৃদ্ধি। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের, বিশেষত খাদ্যপণ্য ও ওষুধের, বাজার দাম নিয়ন্ত্রণে সব রকমের আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।  সাধারণ জিনিসপত্র, এমনকী স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপরেও চড়া হারে জিএসটি  চাপানোর ফলে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। অথচ কর্মীদের আয়ে কার্যত কোনও পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ আয় এবং ব্যয়ের হারের তফাৎ কমছে না। পণ্যের দাম যে হারে বাড়ছে, মানুষের আয় সেভাবে বাড়ছে না। শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

যেসব ক্ষেত্রে পরিবার মেয়েদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে তাঁরা বাধ্য হচ্ছেন কম মজুরির, অনিশ্চিত, নিরাপত্তাহীন ক্ষেত্রে চাকরি করতে।  তার ফলে মেয়ে হিসেবে তারা আরও বেশি শোষিত হচ্ছেন। খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য পরিষেবামূলক প্রাথমিক ক্ষেত্রগুলির ক্রমশ অবনতি এবং মোদি জমানায় উত্তরোত্তর বাজেট কমানোর প্রবণতা, এসব বিষয় অন্যের পরিষেবার দায়িত্বে থাকা মেয়েদের আরও ভারাক্রান্ত করে তুলছে। তাদের নিজেদের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে এই ক্ষেত্রগুলির মতই। NFHS-5 (2019-21) এর সমীক্ষা অনুযায়ী ১৪ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মেয়েরা রক্তাল্পতায় ভুগছেন। সেই হার আগের তুলনায় বেড়েছে ৫৭% এবং তা ক্রমবর্ধমান। এর সমাধান হিসেবে, মোদী রক্তাল্পতাকেই সমীক্ষা থেকে বাদ দিয়ে দিতে বলেছে!

প্রায় এক কোটি কর্মী যারা সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা তাদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে স্বীকৃতিই দেওয়া হয়নি। কারণ সেই স্বীকৃতি দিলে শ্রম আইনের আওতায় সুযোগ-সুবিধাও দিতে হবে! এর মধ্যে বেশির ভাগই কাজ করেন আইসিডিএস (অঙ্গনওয়াড়ি), এম এইচ এম (আশা) এবং মিড ডে মিল ইত্যাদির মত বিভিন্ন প্রকল্পে। এদের পারিশ্রমিক (বেতন নয়, রেমুনারেশন) ২০১৮ সাল থেকে সরকার আর বাড়ায়নি! ইন্ডিয়ান লেবার কনফারেন্সের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা সুপারিশ অনুযায়ী, এই কর্মীদের ন্যূনতম মজুরি দেওয়ার ব্যাপারেও কোনও পদক্ষেপ সরকার নেয়নি। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট আইসিডিএস কর্মীদের গ্রাচ্যুইটি দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছে, মোদী-সরকার সেটিও আজকের তারিখ পর্যন্ত লাগু করেনি। তার ওপর এই কর্পোরেটদের সরকার নিত্যনতুন ফিকির বের করে এই ক্ষেত্রগুলি ক্রমশ বেসরকারি ঘোষণা করে সেগুলি বড় পুঁজিপতি এবং এনজিও-দের হাতে তুলে দিচ্ছে। বেসরকারি হলে শ্রমিক শোষণের হার আরও বাড়ে। সরকার নিজের দায় অস্বীকার করে।

শ্রম-আইনকে অগণতান্ত্রিকভাবে খর্ব করা হচ্ছে

মোদী-সরকার সরকারি-দায় ঝেড়ে ফেলতে বেসরকারি ক্ষেত্র এবং শোষণের পরিসরকে বিস্তৃত করতে শ্রম-আইন এবং শ্রমিকদের অধিকারকে খর্ব করার সমস্ত রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে শ্রমিক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ কঠিন লড়াই এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ-সংঘাতের পথে ভারতবর্ষের শ্রম আইন তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে আছে সঠিক মজুরি, পরিষেবার নিরাপত্তা এবং সুবিধা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার...।

মোদী-সরকার ‘অটল’ অবিচলিত আঘাতে এগুলিকে প্রায় ধ্বংস করে এনেছে। শ্রম আইনে এসেছে ৪টি শ্রম কোড, তাতে বেতন সংক্রান্ত, শ্রম সম্পর্ক সংক্রান্ত, কাজ ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওযার ক্ষমতা মালিকপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। আর মালিকপক্ষ কখনই মুনাফা বাদ দিয়ে শ্রমিক-স্বার্থ দেখবে না একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। এই আইন পাশ হয়েছে, পার্লামেন্টে বিনা আলোচনায়, সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। এর ফলে সমস্ত ক্ষেত্রের শ্রমিকেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এবং মহিলা-শ্রমিকদের অবস্থা আরও সঙ্গীন! যদিও বেতন-কোডে ‘গ্যারান্টি’ রয়েছে- সঠিক হারে সম মজুরি দেওয়া হবে! কিন্তু এই ‘গ্যারান্টি’র অবস্থাও অন্যান্য গ্যারান্টির মতই। ‘ফেকুজির ফেক বুলি’গুলির অন্যতম!

কারণ ভারতবর্ষের বাস্তব ছবি হল, মহিলা এবং পুরুষদের মধ্যে মজুরির হারের অসমতা- বেতনভুক কর্মীদের মধ্যে ৩৪%, অনিয়মিত কর্মীদের মধ্যে ৫০% এবং স্বনির্ভরশীল কাজের ক্ষেত্রে ১৬০%...

শ্রমজীবী মেয়েদের মাতৃত্ব

ঠিকা বা আউটসোর্সড কর্মী হিসেবে নিযুক্ত মেয়েদের মোদী-সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার দেয়নি। এর মধ্যে রয়েছেন আশা এবং মিড ডে মিলের কর্মীরাও। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইনে ২০১৩ সালে ৬০০০ টাকা মাতৃত্বের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। ‘প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা’য় গালভরা নাম এবং বিজ্ঞাপন দিয়ে অস্থায়ী ক্ষেত্রের কর্মীদের এককালীন মাত্র ৫০০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে এই টাকার পরিমাণ একই রয়েছে। তাও মাত্র ২০% মায়েরা এই টাকা পান। স্কিমের সুবিধে পেতে যেদিন থেকে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, ২০২২ সালে দেখা গেছে মায়েদের টাকা পাওয়ার হার আরও ৪৬% কমে গেছে। আবার দুটি কিস্তিতেই সব টাকা পেয়েছেন মাত্র ২৯% মায়েরা।

জেনে রাখা ভালো, এখনও সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে ভারতবর্ষে প্রতিদিন ৬৬ জন প্রসূতির মৃত্যু হয়।

মেয়েদের প্রতি অত্যাচার এবং হিংসা

প্রতি ঘন্টায় ভারতবর্ষে মেয়েদের ওপর ৫১টি অত্যাচারের ঘটনা ঘটে। তাও এই সংখ্যাটি যতটুকু রেকর্ড হয় তার ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে। গত দশ বছরে এই সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ হল, মেয়েদের আর্থিক নিরাপত্তা হ্রাস। মহিলা-বিদ্বেষী সামন্ততান্ত্রিক এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা বিজেপির একটি সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। কারণ বিজেপির মেন্টর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ মনে করে মেয়েদের জায়গা আসলে ঘরের মধ্যেই, সন্তানধারণই তার একমাত্র কাজ। একথা বহুবার তারা প্রকাশ্যেই বলেছে। এই মানসিকতার ছাপ নারীবিদ্বেষী অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। শাস্তি না পাওয়া, এবং নেতাদের মান্যতা অপরাধের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে। কুস্তিগিরদের প্রতিবাদকে আমল না দিয়ে বরং তাদের ওপর পাল্টা অত্যাচার আর অভিযুক্তকে সম্মানিত করার ঘটনাতেই তো নেতাদের মানসিকতা স্পষ্ট!

এছাড়াও হাথরস, উন্নাও, কাঠুয়া, বিলকিস বানোর ঘটনাগুলিতে অভিযুক্তদের বিজেপি যেভাবে শাস্তির বদলে  নিরাপত্তা দিয়েছে, তাতে সন্দেশখালিতে ভোটের আগের তাদের কুমিরের কান্না সকলেই চিনতে পারছে। মণিপুরের ঘটনার স্মৃতি এবং তার রেশ এখনও চলছে। সেই মণিপুর নিয়ে মোদী চুপ! উত্তরপ্রদেশে ‘যোগীর ভেক’ যত ‘সাধু সাধু’, অপরাধের নিরিখে তার রাজ্যের স্থান তত নিম্নগামী! সংখ্যালঘু শ্রমজীবী মেয়েদের ওপর অত্যাচার আরও বেশি। সাংবাদিকদের যেভাবে ট্রোলবাহিনী কুকথায় আক্রমণ করে তার থেকে স্পষ্ট, বাস্তবে, ভার্চুয়াল মিডিয়ায়, সমাজমাধ্যমে — কোথাও এদের হাত থেকে মেয়েদের নিস্তার নেই! কর্মস্থানে যেসব যৌন-হেনস্থার মামলা নথিভুক্ত হয় তার কোনো সমাধান হয় না। PosH Act অনুযায়ী ২০১৩  সালে এই অবস্থার মোকাবিলার জন্য কাজের জায়গায় ইন্টারনাল কম্পলেইন্টস কমিটি (আই সি সি) গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়। বর্তমান সমীক্ষায় দেখা গেছে  ৫৯% ক্ষেত্রে সেই কমিটি কর্মক্ষেত্রে গঠনই করা হয়নি, এবং সে ব্যাপারে কোনো কার্যকরী নজরদারি, পদক্ষেপ মোদী সরকারের নেই।

বাস্তব ঢেকে দেওয়া বাহারি বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে, মিথ্যে প্রচারে, বাস্তব তথ্যের বিকৃতিতে মোদি জমানা ১০০ তে ২০০ পাবে! আমরা ওপরে আসল অবস্থা দেখলাম। সেই বাস্তব থেকে মুখ ফেরাতে আছে সব গালভরা শ্লোগান- ‘নারী শক্তি’, ‘লাখপতি দিদি’, ‘নমো ড্রোন দিদি’...

হবে নাই বা কেন। জরুরি ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ না থাকলেও বিজ্ঞাপনে কোটি কোটি টাকা ছড়ানো হয়। হোর্ডিং এ ঢেকে যায় বাস্তব!

ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার ফাঁদে মেয়েরা

অস্থায়ী, অনিয়মিত ক্ষেত্রের মহিলা কর্মীরা প্রায় প্রত্যেকে মাইক্রো ফিনান্স প্রতিষ্ঠানের ঋণের ফাঁদে জর্জরিত। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ বিভিন্ন জায়গায় সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা শ্রমজীবী তাদের পারিশ্রমিকের বেশিরভাগ চলে যায় ঋণের বোঝা টানতেই। গ্রাম এবং শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মেয়েরা প্রায় প্রত্যেকে ঋণের জালে জড়িত। তাদের নিরক্ষরতা, অর্থহীনতা এবং দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে, চক্রবৃদ্ধি ঋণের ফাঁদে ফেলা হয়েছে। সেই টাকা তোলার জন্য রয়েছে তোলাবাজেরা আর রয়েছে বিভিন্ন থ্রেট পদ্ধতি! টাকা শোধ দিয়েও এই ঋণ কখনও শেষ হয় না, বেড়েই চলে। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই যে ‘গ্যারান্টি’ তাদের দেওয়া হয়, আর যে কাগজে সই করানো হয়, তা আলাদা! সমীক্ষায় দেখা গেছে, এরকম একজন তোলাবাজ বলছে—

মেয়েদের ঋণ দেওয়া হয়, কারণ তারা বেশিক্ষণ ঘরের বাইরে থাকতে পারে না, পালাতে পারে না, তাদের ঘরে ফিরতেই হয়।  আর ভয় দেখিয়ে টাকা তোলাও সহজ। তাই ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলাদের অগ্রাধিকার! বলা বাহুল্য, এসবেও মোদী-সরকারের কোনও নজরদারি নেই! বরং বেশি করে মেয়েদের এই পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

অপরিকল্পিত লকডাউনে ৪৭% মেয়েরা স্থায়ীভাবে কাজ হারিয়েছেন। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে সংসদে এবং রাজ্যসভায় মেয়েদের জন্য ৩৪%  সংরক্ষণের ‘গ্যারান্টি’ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপগুলি থেকে পরিষ্কার যে, আগামী দশ বছরেও এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।

মনে রাখতে হবে এই শ্রমজীবী মহিলারা প্রত্যেকে বাইরের পাশাপাশি দৈনিক গড়ে ৫ ঘন্টা গার্হস্থ্য ক্ষেত্রে শ্রম দেন। ফলে বিজেপি কথায় কথায় তাদের ‘দেবী’’ ‘দুর্গা’’ ইত্যাদি বলে ভুয়ো সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করলেও আসলে তাদের দুটোই হাত এবং সময় ২৪ ঘন্টা! ফলে নিজের শরীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য বাজি রেখে তাঁরা পরিবারের এবং অর্থনীতির সুস্বাস্থ্য নির্মাণ করছেন। তার বদলে পাচ্ছেন মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আর বঞ্চনা! মোদী জমানায় দিন দিন মেয়েদের ঘরে-বাইরে চরম দুরবস্থা ক্রমবর্ধমান। 

একথা বলা যায়, জাতি, বিশ্বাস, ধর্ম, অঞ্চল, ভাষা ইত্যাদি ব্যতিরেকে  শ্রমজীবী মেয়েরা, এবং শ্রমিকদের অংশ হিসেবে এখনও অনেকাংশেই ঐক্যবদ্ধ। আমরা যারা শ্রমিক হিসেবে সমাজ এবং অর্থনীতির উন্নয়নে জিডিপি বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছি, তারা প্রত্যেকে বিজেপি তথা মোদী সরকারের উপরোক্ত প্রতিটি ধ্বংসাত্মক এবং বিভেদমূলক নীতির তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ করছি।

তাই, প্রতিটি মহিলা এবং সমস্ত মানুষের কাছে আবেদন, আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্রকে রক্ষা করুন। আমাদের সংবিধানে যে ‘উই দ্য পিপল’ এর কথা বলা আছে তাকে আরও দৃঢ় করুন। আমাদের মৌলিক অধিকার, ক্ষমতায়ন অর্জনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ, সংগঠিত লড়াইয়ের পথ প্রশস্ত করুন।

নারীবিদ্বেষী মোদী সরকার-কর্পোরেটদের এই জোটকে পরাস্ত করুন।

ভাষান্তর: বীথিকা সাহানা
ঋণ: সিআইটিইউ সেন্টার

আরো পড়ুন:
আয় ও মজুরি: দাবি, প্রচার, বাস্তবতা
শ্রম কোড:  দাবি, প্রচার, বাস্তবতা
স্বাস্থ্য পরিষেবা: দাবি, প্রচার, বাস্তবতা
খাদ্য ও পুষ্টি: দাবি, প্রচার, বাস্তবতা

কর্মসংস্থান: দাবি, প্রচার, বাস্তবতা
সকলের জন্য বাড়ি: দাবি, প্রচার, বাস্তবতা
সঙ্কটে গণতন্ত্র! পরাস্ত করুন বিজেপিকে!
প্রতিহত করুন হিন্দুত্ব রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা! পরাস্ত করুন বিজেপিকে!
প্রতারিত মেহনতিরা, পরাস্ত করুন বিজেপিকে
প্রতারিত কৃষকেরা, পরাস্ত করুন বিজেপিকে


প্রকাশের তারিখ: ০৯-এপ্রিল-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org