সিএএ: লক্ষ্য আসলে মেরুকরণ

শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার
এই আইনটির কোনো একক প্রাসঙ্গিকতা নেই। এই আইনের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে আরো দু’টি বিষয়। এক, এনপিআর বা জাতীয় জনপঞ্জি ও এনআরআইসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি। এই তিনটি মিলে যে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা বিজেপির নীলনকশার অন্তর্ভুক্ত সেটি মূলগতভাবে মেরুকরণের রাজনীতির দ্বারা পরিচালিত।

সকাল থেকে বিকেল, খবর-পাড়া সরগরম ছিল সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ঘিরে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ— ইলেক্টোরেল বন্ড সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য স্টেট ব্যাঙ্ককে প্রকাশ করতে হবে আগামীকাল বিকেলের মধ্যেই। ‘সুপ্রিম কোর্টে জোড়ালো ধাক্কা খেলো কেন্দ্র’ এমনটাই ছিল সারাদিনের সংবাদের সুর। বিকেল থেকেই হাওয়াটা যেন কেমন বদলে যেতে থাকল। এই চপেটাঘাতের খবরকে খাটো করে বাজারে আসতে থাকে সিএএ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রজ্ঞাপন/বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কিত তাজা খবর। মুহূর্তে সংবাদ মাধ্যমের নজর গেল ঘুরে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত আসতেই প্রকাশিত হয়ে গেল প্রজ্ঞাপন যা গত চার বছর ধরে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল। সকাল ও বিকেলের দু’টি ঘটনা কি পরস্পর সম্পর্কহীন? সম্ভবত না। 

৯ ডিসেম্বর, ২০২১। লোকসভায় সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন রাখলেন ডিএমকে সদস্য দয়ানিধি মারন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, ২০১৯ নিয়ে সরকারের অবস্থান কী? ১৮৭৯ নম্বরে তালিকাভুক্ত এই প্রশ্নের উত্তরে লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানালেন, এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে একাধিক মামলা দেশের উচ্চতম আদালতে হওয়ার প্রেক্ষিতে বিষয়টি এখন বিচারাধীন। তার অর্থ দাঁড়ালো যতক্ষণ না সুপ্রিম কোর্ট কোনো সুনির্দিষ্ট রায় দিচ্ছে ততক্ষণ নাগরিকত্ব আইনের স্থান হিমঘরে। একই কথা বলেছে শাসকদলের আসামের বিভিন্ন নেতারা। তবে কেন হঠাৎ এই বদল?

মূলধারার সংবাদ মাধ্যম বলছে, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নাকি খুশির জোয়ার বইছে। কারণ তাদের ভারতের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির পথে নাকি আর বাধা রইল না। পাকিস্তানের হিন্দু ধর্মাবলম্বী ক্রিকেট খেলোয়াড় দানিশ কানোরিয়াও নাকি বলেছেন যে আজ পাকিস্তানের হিন্দুদেরও বিরাট খুশির দিন। ওদিকে আসামের অসমীয়া সমাজে আতঙ্ক, বাংলাদেশ থেকে জনপ্লাবন নেমে আসাম ভেসে যাবে। আসলে সবটাই ধাপ্পাবাজী। বিভাজনের একটা ছক মাত্র । ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি চাইছে যেনতেনপ্রকারেণ দুই তৃতীয়াংশ আসন পেতে, যা পেলে তারা দেশের সংবিধানের খোলনলচে পাল্টে দিতে পারে। উত্তর ভারতে পাঞ্জাব বাদ দিলে ২০১৯ সালেই তারা প্রায় সব আসনে জয় পেয়েছিল। সেখানে আর আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। ফলে পাখির চোখ পশ্চিমবঙ্গে। সেজন্যেই জরুরি এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা যা থেকে বিজেপি দলটি প্রতিভাত হতে পারে উদ্বাস্তু সহ হিন্দুদের মসীহা হিসেবে। বিজেপির যতই হিন্দুদের মধ্যে মিথ্যে আশার সঞ্চার করবে, ততই বিপন্ন মুসলিম সংখ্যালঘুরা এককাট্টা হতে চাইবে তৃণমূলের দিকে। আরএসএস-এর মুখপত্র স্বস্তিকা কবেই বলেছে বামেদের চেয়ে তৃণমূল শ্রেয়। ফলেই মেরুকরণে যেমন বিজেপির উৎসাহ, তৃণমূলেরও তাতে আপত্তি নেই।

প্রকৃত সত্য হল, এই সিএএও অমিত শাহের ভাষায় আরেকটি জুমলা। ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগে মোদী ও অমিত শাহ মঞ্চে ভাষণ দিতে গেলেই সকলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পনেরো লাখ টাকা ঢোকার স্বপ্ন বপন করেছিল। পরে যখন প্রশ্ন করা হল এ নিয়ে, তখন অমিত শাহ বললেন, ও তো জুমলা থা। সেই সময়ে আসামে এনআরসি থেকে বাদ পড়ে যাওয়ার আতঙ্কে অর্জুন সূত্রধর ও বুলু প্রামাণিক নামে দুই যুবক আত্মহত্যা করেছিল। তাদের ভয় ছিল রাষ্ট্রহীনতার। ভয় ছিল ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক হওয়ার। আদানীর ব্যক্তিগত বিমানে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে সভায় নাটকীয় ভঙ্গিতে মোদী বলেছিলেন, ২০১৪ সালে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে তবে আর কোনো অর্জুন শুক্লবৈদ্য বা বুলু প্রামাণিক প্রাণ হারাবে না। সমস্ত ডিটেনশন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেবে সরকার। ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি জুমলা হয়ে গেল। ১৯ লক্ষ মানুষ এনআরসি থেকে বাদ পড়লেন। এই ১৯ লক্ষ ও ভোটার তালিকায় সন্দেহপ্রবণ চিহ্নিত আরো ৬ লক্ষ, মোট ২৫ লক্ষ মানুষ রাষ্ট্রহীনতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তাদের আধার, প্যান কেড়ে নিয়েছে সরকার। ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করেছে সরকার। ২৫ লক্ষ মানুষের বেশিরভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং বাংলা ভাষী। ডিটেনশন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া তো দূরস্থান, নতুন করে ১০০টি আটককেন্দ্র তৈরি করেছে সরকার। 

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে ভারতে বসবাসকারী উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর ঢালাও নাগরিকত্ব প্রদানের কোনো প্রস্তাবই নেই। এমনকী বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের অ-মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রাপ্তি নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে তাও সর্বৈব মিথ্যা। এই আইনটি শুধুমাত্র সেইসব অ-মুসলিম মানুষদের জন্যে যারা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবধি আফগানিস্থান, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে বাস করছে অবৈধভাবে। ‘অবৈধভাবে বাস করা’ কথাটার মানে হল, তারা বিনা পাসপোর্ট-ভিসায় এসেছে অথবা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও রয়ে গেছে এদেশে। আবার এই শর্ত পূরণ হলেই কেউ সরাসরি নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে না। তাকে আবেদন করতে হবে। ভিনদেশ থেকে আসা অন্য নাগরিকদের এদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্যে এগারো বছর প্রতীক্ষা করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। কিন্তু এই আবেদন করার পথে সবচেয়ে বড়ো বিপদ দু’টি জায়গায়। প্রথমত, তাদেরকে সরকারের কাছে প্রথমেই এই মর্মে স্বীকারোক্তি দিতে হবে যে তারা এদেশে প্রবেশ করেছে অবৈধভাবে। দ্বিতীয়ত, তাদের পূর্বতন বাসভূমির বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণপত্রও দিতে হবে সরকারের নির্দিষ্ট করে দেওয়া নথিগুলির ভিত্তিতে। এই নথিগুলির মধ্যে রয়েছে পূর্বতন বাসভূমির পাসপোর্ট, স্কুলের শংসাপত্র, শরনার্থী সনদ, পূর্বতন বাসভূমির পরিচিতিপত্র অথবা লাইসেন্স, ভূমির দলিল অথবা যে কোনো পূর্বতন বাসভূমির সরকারি দলিল। বলা বাহুল্য, এমন নথি জোগাড় করা ভারতে বসবাসকারী বেশিরভাগ উদ্বাস্তুর পক্ষে অসম্ভব। যদিও-বা তারা কোনো নথি জমা দেয় এবং সেটা একবার অগ্রাহ্য হয়ে গেলে নিজেদেরই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তারা অ-ভারতীয় ঘোষিত হয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে স্থান পাবে। আসামের ১৯ লক্ষ মানুষের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। এই আইনের ফলে নাগরিকত্বের সুবিধা পাবে একমাত্র ২০১৫ সালে প্রবর্তন করা দীর্ঘমেয়াদি ভিসা (এলটিভি)-র আওতায় থাকা বহিরাগতরা। সিএএ-র সুবাদে যারা নাগরিকত্ব পেতে চাইবেন তাদেরকে দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা বা এলটিভি-র শর্ত পূরণ করতেই হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকদের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সাল অবধি আফগানিস্থান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মাত্র ৩৫,০০০ জন মানুষ দীর্ঘ মেয়াদী ভিসার আবেদন করেছে তার মধ্যে বাংলাদেশের আবেদনকারীর সংখ্যা মাত্র ১৮৭। ফলে সিএএ চালু হওয়া মানেই পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী সমস্ত উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব সুনিশ্চিত হয়ে যাওয়া, এটা একটি ভাঁওতা। সিএএ পূর্ববঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের জন্যে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক একটি আইন। আবার যারা ভাবছেন এই আইন চালু হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তুদের ঢল নামবে, সেটাও সম্পূর্ণ অমূলক কারণ এই আইনের সমাপ্তি সময়রেখা ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৪। এই সময়ের পর আসা কোনো বহিরাগতের জন্যেই এই আইনে কোনো ব্যবস্থাপত্র নেই। তাছাড়া অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম, মেঘালয় এবং আসাম ও ত্রিপুরার স্বশাসিত পরিষদ এলাকার বাঙালি উদ্বাস্তু বা চাকমা শরণার্থী কেউই এই আইনের আওতায় আসবে না। ওই এলাকায় বরং নতুন করে বহিরাগত বিরোধী উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়ে যেতে পারে।

তবে সবচেয়ে বড়ো কথা এই আইনটির কোনো একক প্রাসঙ্গিকতা নেই। এই আইনের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে আরো দু’টি বিষয়। এক, এনপিআর বা জাতীয় জনপঞ্জি ও এনআরআইসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জি। এই তিনটি মিলে যে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা বিজেপির নীলনকশার অন্তর্ভুক্ত সেটি মূলগতভাবে মেরুকরণের রাজনীতির দ্বারা পরিচালিত। ২০০৩ সালে বাজপেয়ী সরকার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিধির মাধ্যমে প্রথম ভারতের নাগরিকত্বের সন্দর্ভে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর প্রসঙ্গটি অন্তর্ভুক্ত করে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ভারতে জন্মগ্রহণ করা প্রতিটি শিশুই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত ছিল। ১৯৮৫ সালে আসাম চুক্তির পর পরিবর্তিত ১৯৮৭ সালের আইন অনুযায়ী ভারতে জন্মগ্রহণ করা প্রতিটি শিশু ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবে যদি তার পিতামাতার অন্তত একজন ভারতীয় নাগরিক হয়। ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিধির পর ২০০৪ এর সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ভারতে জন্মগ্রহণ করা একটি শিশু তখনই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হবে যদি তার পিতামাতার একজন ভারতীয় নাগরিক হওয়ার সাথে সাথে অপরজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী না-হয়। এই পরিবর্তিত আইনের ফলে ভারতে ঘোষিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা আসামের ১৯ লক্ষ ঘোষিত বিদেশিদের পরবর্তী প্রজন্মের কেউই কখনোই ভারতীয় নাগরিক হবে না। এর অর্থ বাজপেয়ী সরকারের পরিবর্তিত আইন সুপরিকল্পিতভাবে ভারতে দু’টি শ্রেণির মানুষের সৃষ্টি করতে চেয়েছে যাদের একদল নাগরিক এবং অপর অংশ চিরদিনের জন্যে ঘোষিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। এক্ষেত্রে স্মর্তব্য, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার সূত্রপাত মূলত বাজপেয়ী সরকারের নাগরিকত্ব বিধি ঘোষণার পর থেকে। ওই বিধি যখন ঘোষিত হয় তখন বাজপেয়ী মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেই সময়ে এই বিষয়ে একটি টু শব্দও করেন নি। আসামের ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক পঞ্জির নাম এনআরসি যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে ভারতে আসা প্রতিটি মানুষ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব নির্দেশাবলীর ভিত্তিতে যে সর্বভারতীয় নাগরিক পঞ্জির তৈরি হবে তার নাম ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব ইন্ডিয়ান সিটিজেনস বা এনআরআইসি। এতে অন্তর্ভুক্ত হবে সেই মানুষেরাই যারা বা যাদের পূর্বপুরুষ ১৯৪৮ সালের ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে আজকের ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। এই পঞ্জি তৈরি প্রথম পদক্ষেপ এনপিআর তৈরি যাতে অন্তর্ভুক্ত হবে প্রাথমিকভাবে সমস্ত ভোটদাতারাই। এই এনপিআর থেকে তারাই এনআরআইসিতে অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের বিরুদ্ধে অ-ভারতীয়ত্বের অভিযোগ উত্থাপিত হবে না কিংবা উত্থাপিত হলেও নির্দিষ্ট নথির ভিত্তিতে তারা ১৯৪৮ সালের ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে ভারতে বসবাসের প্রমাণ হাজির করতে পারবে। এখন প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গে কতজন উদ্বাস্তু এমন অভিযোগ উত্থাপিত হলে এমন প্রমাণপত্র পেশ করতে সক্ষম হবে। শুধু উদ্বাস্তু কেন, ভারতের দরিদ্র অংশের কত শতাংশ মানুষ জমিজমার দলিলের মাধ্যমে তার ভারতীয়ত্বকে এভাবে প্রমাণ করতে পারবে। সিএএ-এর মেরুকরণের রাজনীতি সক্রিয় হয়ে উঠবে এই পরিপ্রেক্ষিতেই। হিন্দুরা ভেবে নেবে তারা এমন পরিস্থিতিতে সিএএ-এর জোরে বেঁচে যাবে, কিন্তু দরিদ্র মুসলিমরা বাদ পরে গিয়ে পরিণত হবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীতে।

এই মুহূর্তে নির্বাচনের প্রাক্কালে এই মেরুকরণের রাজনীতিকেই পুঁজি করতে চাইছে বিজেপি ও তৃণমূল দু-দলই। একদল চাইছে নিজেদের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা হিসেবে প্রতিপন্ন করতে, অন্য দল চাইছে নিজেদেরকে মুসলিমদের ত্রাণকর্তা হিসেবে তুলে ধরতে। প্রকৃতপক্ষে ভারতের সংবিধানের মৌল আদর্শের বুকেই আঘাত করেছে সিএএ। ভারতের নাগরিকত্ব আইন ছিল ধর্মনিরপেক্ষ। এখানে নাগরিকত্ব নির্ধারিত হত যে শর্তাবলীর মাধ্যমে সেখানে ধর্মের কোনো স্থান ছিল না। হিটলারের নাৎসিবাদ ও ইজ়রায়েলের জায়নবাদের রক্তপরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আদর্শকে ভারতের উপর চাপিয়ে দিয়ে বিজেপি চাইছে ভারতের গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্রের মূলেই কুঠারাঘাত করতে। এর বিরুদ্ধে লড়তে পারে একমাত্র বামপন্থীরাই। পৃথিবীর দেশে দেশে নাগরিকত্বের সমানাধিকারের জন্যে লড়ছে বামপন্থীরা। মেরুকরণের এই সাম্প্রতিকতম চক্রান্তও ব্যর্থ হবে বামপন্থীদেরই নেতৃত্বে।  

     


প্রকাশের তারিখ: ১২-মার্চ-২০২৪

© কপিরাইট মার্কসবাদী পথ. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৩১ আলিমুদ্দিন স্ট্রীট , কলকাতা ৭০০০১৬, +91 33 2217 6638, +91 70599 23957
marxbadipath.22@gmail.com
www.marxbadipath.org